মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কাল জিলানী চিশতী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী’র ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী

মির্জা মানিক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
কাল জিলানী চিশতী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী’র ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান শাহতলী নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বহু প্রতিষ্ঠানের রূপকার শাহ্তলী জিলানী চিশতী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা এ টি আহমেদ হোসাইন রুশদীর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার ২০ জুন। তিনি ১৯৭৫ সালের এইদিনে ঢাকা হ্যালি ফ্যামেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও দিনব্যাপী  বিভিন্ন কর্সসূচী গ্রহন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে। আজ ২০ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ মসজিদে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, সকাল ১০টায় মরহুমের কবর জিয়ারত , কবর জিয়ারত শেষে কলেজ মিলণায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে কর্মসূচী সমাপ্ত হবে৷
জানা গেছে, মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী এজিবিতে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেছেন। শিক্ষা প্রসারে নিজের বহু অর্থ সম্পদ ও জমি দান করেছিলেন। গড়ে তোলেছেন শাহতলী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
তিনি শাহতলী কামিল মাদরাসা, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শাহতলী দাখিল মাদ্রাসা, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর শাহতলী যোবাইদা সরকারি (বালিকা) প্রাথমিক বিদ্যালয়,হামানকর্দ্দিতে শাহতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাপানিয়া রুশদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেনাপুর আগরজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেনগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লাকসাম উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার দক্ষিণ মুহসেন্দী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এছাড়াও শাহ্তলী অঞ্চলের বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা ও মসজিদসহ নানা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আন্তরিক সহযোগিতা করেন। তিনি চাঁদপুর জেলা ও বিভিন্ন স্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনে অবদান রেখেছেন। তার নিজের এলাকায় মানুষদের নিরক্ষর মুক্ত রাখার জন্য তিনি এ মহৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনে তার ছিল অক্লান্ত, অফুরন্ত পরিশ্রম। পরিশ্রম এবং সততা মানুষকে সৌভাগ্য এবং সফল করতে পারে তাই তিনিও জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়ে সফল হয়েছেন।শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখায় তৎকালীন সরকার তাকে গোল্ড মেডেল ও রুশদী উপাধিতে ভূষিত করেন।
উল্লেখ্য, মরহুম মাওলানা এ টি আহমেদ হোসাইন রুশদী চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদীর দাদা ।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।