বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
হাজীগঞ্জে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিহতের স্বজনরা চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত লামিয়া আক্তার তুবা (২১) হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া গ্রামের বেপারী বাড়ির ওমানপ্রবাসী মো. পারভেজ হোসেনের স্ত্রী। তিনি একই এলাকার মিজি বাড়ির মো. লিটন হোসেন মিয়াজি ও ফাতেমা বেগম পাখি আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে।

স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে প্রসবের জন্য হাজীগঞ্জ বাজারের শাহমিরান হাসপাতালে তুবাকে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে কিছুক্ষণ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানো হয়েছে এবং চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই তুবার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Model Hospital

ঘটনার পর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাও উপস্থিত থেকে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখেন।

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. এ কে আজাদ জানান, রোগীকে সুস্থ অবস্থায় অপারেশনের পর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এমনকি তিনি আড়াই ঘণ্টা পর নবজাতককে দুধও খাওয়ান। এরপর হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌যন্ত্রজনিত কোনো জটিলতা থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

জেলা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, কী কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital