হাজীগঞ্জে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিহতের স্বজনরা চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত লামিয়া আক্তার তুবা (২১) হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া গ্রামের বেপারী বাড়ির ওমানপ্রবাসী মো. পারভেজ হোসেনের স্ত্রী। তিনি একই এলাকার মিজি বাড়ির মো. লিটন হোসেন মিয়াজি ও ফাতেমা বেগম পাখি আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে।

স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে প্রসবের জন্য হাজীগঞ্জ বাজারের শাহমিরান হাসপাতালে তুবাকে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে কিছুক্ষণ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানো হয়েছে এবং চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই তুবার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ঘটনার পর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাও উপস্থিত থেকে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখেন।
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. এ কে আজাদ জানান, রোগীকে সুস্থ অবস্থায় অপারেশনের পর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এমনকি তিনি আড়াই ঘণ্টা পর নবজাতককে দুধও খাওয়ান। এরপর হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্যন্ত্রজনিত কোনো জটিলতা থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
জেলা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, কী কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মান্নান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





