বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে দুই অটো রাইস মিলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
চাঁদপুরে দুই অটো রাইস মিলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে খাল দূষণ ও ভরাটের দায়ে চাঁদপুরের নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত দুটি অটো রাইস মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে খাল দূষণ ও ভরাটের দায়ে চাঁদপুরের নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত দুটি অটো রাইস মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট রাইস মিলগুলো পার্শ্ববর্তী নাপিতবাড়ি খালে ধানের তুষ, ছাই এবং ধান সিদ্ধ করার গরম পানি ফেলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(গ) লঙ্ঘন করে খাল দূষণ ও ভরাট করছে।

এ অপরাধে মেসার্স বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিলকে ৪০ হাজার টাকা এবং মেসার্স নিউ পূবালী অটো রাইস মিলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বমোট ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট রাইস মিল কর্তৃপক্ষকে ডাকাতিয়া নদীতে অপসারণ করা ধানের তুষ ও ছাই দ্রুত সরিয়ে নিয়ে নদী দূষণমুক্ত রাখার নির্দেশনা দেন।

Model Hospital

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চাঁদপুরের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা এবং মো. রহমত উল্লাহ। মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউশন উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুরের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, খাল, নদী ও জলাশয়ে শিল্পবর্জ্য, ধানের তুষ, ছাই কিংবা গরম পানি ফেলে পরিবেশ দূষণের কোনো সুযোগ নেই। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, পরিবেশবিধি অমান্য করে কেউ খাল-নদী দূষণ বা ভরাটের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ ও সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।