শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ

চাঁদপুরের মেয়ে সামিরার জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় সাফল্য

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
চাঁদপুরের মেয়ে সামিরার জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় সাফল্য

শুক্রবার (২৬) জুন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁদপুরের মেয়ে সামিরার হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনআহমেদ। এ সময় অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সামিরা মেহনাজ নুসরাত। এর আগে তিনি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন।

শুক্রবার (২৬) জুন রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি পুরস্কার, সম্মাননা স্মারক ও সনদ গ্রহণ করেন।

সামিরা চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা জি এম শাহজাহান আহমেদ এবং মা মোসা. মোবাশ্বেরা আক্তার। তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন চাঁসক নাট্যমঞ্চের সদস্য।

এর আগে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন সামিরা। এছাড়া সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তিনি।

Model Hospital

পুরস্কার গ্রহণের পর সামিরা মেহনাজ নুসরাত বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি লেখালেখি ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে চাই।

তিনি এ সাফল্যের জন্য বাবা-মা, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষকরা জানান, সামিরা একজন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী। তাঁর এই অর্জন কলেজের পাশাপাশি চাঁদপুর জেলার জন্যও গৌরবের। শিক্ষাবিদদের মতে, সামিরার ধারাবাহিক সাফল্য নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায়ে আরও উৎসাহিত করবে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।