বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে উপজেলা বিএনপি সভাপতির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগরণে প্রশংসা

শাহরাস্তিতে ফজরের নামাজ পড়ায় ৫৭ কলেজ শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক ৫৭ হাজার টাকা পুরস্কার

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
শাহরাস্তিতে ফজরের নামাজ পড়ায় ৫৭ কলেজ শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক ৫৭ হাজার টাকা পুরস্কার

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ফজরের নামাজ আদায়কারী কলেজ শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে ৫৭ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া। নীতি-নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সুশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতেই তিনি এ উদ্যোগ নেন।

শনিবার (২৭ জুন) খিলা বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলার চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।

দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতিনিধি ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জানতে চান, “আজ ফজরের নামাজ কে কে আদায় করেছো? শনিবার খিলা বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৫ জন এবং বৃহস্পতিবার চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২১জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে জানান, তারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ফজরের নামাজ আদায় করেছেন। এতে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেন, যারা ফজরের নামাজ আদায় করেছে তাদের প্রত্যেককে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই সেই অর্থ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুষ্ঠান শেষে খিলা বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৫ শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা এবং চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২১ শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৪২ হাজার টাকা প্রদান করেন।

Model Hospital

দুই প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে তিনি ৫৭ হাজার টাকা তুলে দেন। প্রধান অতিথির এমন আকস্মিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা জাগ্রত করার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে দুই কলেজের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে।

এ সময় জানানো হয়, চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এডহক কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব অর্থায়নে কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা দিয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত তিনি বড় অংকের  অর্থ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে ব্যয় করেছেন। চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এমন উৎসাহমূলক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।নিজ বক্তব্যে আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই ভালো ফল অর্জন সম্ভব নয়, সফলতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে প্রার্থনাও করতে হবে।

তিনি এ প্রসঙ্গে সম্রাট আকবরের একটি শিক্ষণীয় ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এক ভিক্ষুক দানের আশায় সম্রাট আকবরের দরবারে গিয়ে দেখেন, এত বড় সম্রাট নিজেই মহান আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করছেন। তখন ভিক্ষুকটি উপলব্ধি করেন, যিনি নিজেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তাঁর কাছে নয়, বরং সরাসরি মহান আল্লাহর কাছেই চাওয়া উত্তম। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝাতে চান, প্রকৃত দাতা একমাত্র মহান আল্লাহ। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর ওপর ভরসা রেখে পরিশ্রম ও ইবাদতের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।আয়েত আলী ভূঁইয়া সম্পর্কে জানা যায়, ছাত্রজীবনে গ্রামের বাড়ি কাকৈরতলা ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে গিয়ে তিনি সিজদারত অবস্থায় শপথ করেছিলেন, জীবনের প্রথম ব্যবসায়িক আয় দিয়ে ঈদগাহটি পাকা করবেন। পরবর্তীতে প্রথম উপার্জনের অর্থ দিয়েই তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন।

ব্যবসায়িকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আশির দশক থেকে নিজস্ব যাকাত তহবিলের অর্থায়নে গৃহহীন ও অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আয়েত আলী ভূঁইয়া মেহনতী কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং প্রকৃত অসহায় ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। এ বিষয়ে আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, “আমি রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিই না। প্রকৃত অসহায় ও সৎ নামাজি মানুষদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। এটি গরিব মানুষের হক। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় তিন হাজারেরও বেশি ঘর নির্মাণে সহায়তা করেছেন। আগামীতে এ সংখ্যা পাঁচ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব, চাঁদপুর, লাকসাম, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকার ৪৮টি অসহায় পরিবারকে উন্নতমানের স্টিল শিটের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তার জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

একই সঙ্গে তিনি একজন শিক্ষা অনুরাগী। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের অনুদান দিয়ে আজীবন সদস্য হয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সহায়তায় নিয়মিত অবদান রেখে আসছেন।

দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি একজন দানবীর হিসেবেও শাহরাস্তিতে সুপরিচিত। অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান দীর্ঘদিনের। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব।

উল্লেখ্য, দুটি কলেজেই শিক্ষার্থীদের হাত তুলতে বললে কোনো ছেলে শিক্ষার্থী সেদিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করেছে বলে হাত তুলতে পারেনি।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।