শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিয়ের ৬০ দিনেই নববূধ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, প্রেমিক আটক

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম
শাহরাস্তিতে বিয়ের ৬০ দিনেই নববূধ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, প্রেমিক আটক

শাহরাস্তিতে  বিয়ের মাত্র দুই মাস পর এক নববধূর ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই কান্ডে  দায়ের করা ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি, ভুক্তভোগীর সাবেক প্রেমিক নিহাদ ইসলাম (২৪)-কে  আটক  করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির  সুরসই গ্রামের এক তরুণীর প্রায় দুই মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তিনি ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।

পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নববধূ জানান, পার্শ্ববর্তী উয়ারুক গ্রামের লুতু মিয়ার ছেলে নিহাদ ইসলামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিহাদ দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নিহাদ তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি এলাকায় চাউর  হলে নিহাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জোরপূর্বক ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে একটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেন।

Model Hospital

অভিযুক্ত পরিবারের প্রভাবের কারণে প্রথমদিকে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি। পরে বিষয়টি শাহরাস্তি মডেল থানার নজরে এলে পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়। এরপর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন আসামিপক্ষের হুমকি-ধমকির কারণে আমরা ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারিনি। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।