বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিয়ের ৬০ দিনেই নববূধ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, প্রেমিক আটক

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম
শাহরাস্তিতে বিয়ের ৬০ দিনেই নববূধ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, প্রেমিক আটক

শাহরাস্তিতে  বিয়ের মাত্র দুই মাস পর এক নববধূর ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই কান্ডে  দায়ের করা ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি, ভুক্তভোগীর সাবেক প্রেমিক নিহাদ ইসলাম (২৪)-কে  আটক  করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলার টামটা উত্তর ইউপির  সুরসই গ্রামের এক তরুণীর প্রায় দুই মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তিনি ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।

পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নববধূ জানান, পার্শ্ববর্তী উয়ারুক গ্রামের লুতু মিয়ার ছেলে নিহাদ ইসলামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিহাদ দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নিহাদ তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি এলাকায় চাউর  হলে নিহাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা জোরপূর্বক ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে একটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেন।

Model Hospital

অভিযুক্ত পরিবারের প্রভাবের কারণে প্রথমদিকে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি। পরে বিষয়টি শাহরাস্তি মডেল থানার নজরে এলে পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়। এরপর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন আসামিপক্ষের হুমকি-ধমকির কারণে আমরা ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারিনি। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।