শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে একই দিনে নিভে গেল দুই ভাইয়ের জীবনপ্রদীপ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:১২ এম
হাজীগঞ্জে একই দিনে নিভে গেল দুই ভাইয়ের জীবনপ্রদীপ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এক ভাইকে দাফন করার শোক কাটতে না কাটতেই আরেক ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়া এলাকায় বিরাজ করছে শোকের আবহ।

জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া এলাকার শুকু কমিশনারের বাড়ির বাসিন্দা এবং হাজীগঞ্জ বাজারের সুপরিচিত মাছ ব্যবসায়ী শাহিন রোববার (২৮ জুন) ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, ব্যবসায়ী সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

জোহরের নামাজের পর মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ে আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বড় ভাইকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পরই একই দিন রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তাঁর সহোদর আলমগীর হোসেনও ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Model Hospital

একই দিনে পরিবারের দুই সহোদর ভাইকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন জনি চৌধুরী বলেন, “একই দিনে পরিবারের দুই সহোদর ভাইকে হারানোর মতো এমন মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের এলাকায় খুবই বিরল। তাঁদের মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাই শোকাহত।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, মরহুম শাহিন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও সজ্জন ব্যবসায়ী হিসেবে সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। অন্যদিকে আলমগীর হোসেনও ভদ্র, অমায়িক ও সদালাপী মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাঁদের পরপর প্রয়াণে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।