রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে

চাঁদপুরে দুই হাজার উপকারভোগীর মাঝে ২ কোটি টাকা বিতরণ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
চাঁদপুরে দুই হাজার উপকারভোগীর মাঝে ২ কোটি টাকা বিতরণ

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জীবিকা চাঁদপুর-৫’ প্রকল্পের আওতায় তহবিল হস্তান্তর করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জীবিকা চাঁদপুর-৫’ প্রকল্পের আওতায় তহবিল হস্তান্তর ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে চাঁদপুরের বাবুরহাটে অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল শাখায় যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত ‘মানব উন্নয়ন কর্মসূচি-৫’ প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার উপকারভোগীর মাঝে ২ কোটি টাকার তহবিল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, যাকাত কেবল একটি ধর্মীয় বিধান নয়, এটি একটি কার্যকর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় যাকাতের অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই মানব উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করে, তবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ দ্রুত স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। আজ যারা এই সহায়তা গ্রহণ করেছেন, তারা যেন এ অর্থকে ভোগের পরিবর্তে উৎপাদনশীল কাজে বিনিয়োগ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। তাহলেই এ প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন  ড্যাফোডিল গ্রুপের সিইও ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নূর খান, ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. জাফর ইকবাল খান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বাবুরহাট কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের উপাধ্যক্ষ আই. কে. হেলাল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজে টেকসই মানব উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।