শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ১০ দিনে পুলিশের জালে ১৬ আসামি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
শাহরাস্তিতে ১০ দিনে পুলিশের জালে ১৬ আসামি
শাহরাস্তিতে মাদক ও অপরাধ দমনে টানা ১০ দিনের বিশেষ অভিযানে ১৪ জন মাদক কারবারি এবং ২ জন পলাতক আসামিসহ মোট ১৬ জনকে আটক করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।
গত ২০ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ গ্রাম গাঁজা ও ১১৫ পিস ইয়াবা।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং অপরজন ১৫টি মাদক মামলার পলাতক আসামি। শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই ও এএসআইদের নেতৃত্বে পৃথক পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার (২৯ জুন) চিতোষী পশ্চিম ইউপির  উঘারিয়া বাজার-স্বেতী নারায়ণপুর নুনিয়া সড়কের নোয়া বাড়ির পাশে অভিযান চালিয়ে সিমাইল গ্রামের মো. রনি হোসেন (২৫)-কে ১১ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
একই দিন চিতোষী পশ্চিম ইউপির  আয়নাতলী এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির সামনে পুরাতন ব্রিকফিল্ড সংলগ্ন সড়কে অভিযান চালিয়ে ফেরুয়া গ্রামের মো. আব্দুল হান্নান (২৫)-কে ২০ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আয়নাতলী এলাকার ফারুক প্রকাশ কটি ফারুক (২৯) পালিয়ে যায়।
এছাড়া সোমবার (২৯ জুন) মেহের উত্তর ইউপির দেবীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউপির বড় ভবানীপুর (আলী আহম্মদ হাজী বাড়ি) গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে মো. কাউছার হোসেন (৩২)-কে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়।
২৫ জুন রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির প্রসন্নপুর (মেহের আলী জমাদ্দার বাড়ি) গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে আনিছুর রহমান (৬০)-কে একটি নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে আটক করে পুলিশ। একই দিনে শাহরাস্তি পৌরসভার সেনগাঁও এলাকার মো. আরাফাত হোসেন (২৩), মো. মিশন (২০) ও মো. মোবারক হোসেন (২৩)-কে মোট ১১ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এছাড়া টামটা উত্তর ইউপির হোসেনপুর (কামার বাড়ি) গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন (৩৭)-কে ১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
২৪ জুন চিতোষী পূর্ব ইউপির কালাচো (আজিম মাস্টারের বাড়ি) গ্রামের মো. জিহাদ (১৯)-কে ১৬ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
২২ জুন দোপল্লা এলাকার ১৫টি মাদক মামলার পলাতক আসামি মো. মনু মিয়া (৪০)-কে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিনে মেহের এলাকার আক্তার হোসেন (৩৭) ও জসিম উদ্দিন (৪২)-কে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়।
২১ জুন সূচীপাড়া এলাকার মো. আব্দুল জলিল (৪৫)-কে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। একই দিনে মেহের উত্তর ইউপির দেবীপুর এলাকায় মো. সোহাগ (৩২)-কে ৪৭ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এ সময় তার সহযোগী স্বপন (৪৭) পালিয়ে যায়।
২০ জুন টামটা উত্তর ইউপির হোসেনপুর (স্বর্ণকার তালুকদার বাড়ি) গ্রামের কামরুল হাসান (২৭)-কে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “মাদকমুক্ত শাহরাস্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী কিংবা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।