শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ জুয়েলারি দোকানে অভিযান, চোরাইকৃত স্বর্ণ উদ্ধার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৮:২৭ পিএম
ফরিদগঞ্জ জুয়েলারি দোকানে অভিযান, চোরাইকৃত স্বর্ণ উদ্ধার
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ বাজারের ‘ভাই ভাই শিল্পালয় অ্যান্ড জুয়েলার্স’ থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে ফরিদগঞ্জ ও রামগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত চোরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর চন্দিপুর গ্রামের এক হিন্দু বাড়িতে চুরির ঘটনায় ওই এলাকার মহসিনের ছেলে শান্তকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমতোই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) দিনদুপুরে উত্তর চন্দিপুর গ্রামের মিলন রানী মালাকারের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার রামগঞ্জ থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে চোর শান্তকে গ্রেপ্তার করে। শান্তর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রান্ত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মহিউদ্দিন ও ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক পিয়াস বড়ুয়ার নেতৃত্বে ফরিদগঞ্জ বাজারের উত্তর প্রান্তে স্বর্ণব্যবসায়ী শ্যামল দাসের মালিকানাধীন ‘ভাই ভাই শিল্পালয় অ্যান্ড জুয়েলার্স’ এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শান্ত ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কাছিয়াড়া কলেজগেট এলাকায় মোল্লা বাড়ির শিপন মোল্লার মেয়েকে বিয়ে করে প্রায় পাঁচ বছর আগে। চুরির পর সে তার শ্বাশুড়ি কুলছুমা বেগমকে দিয়ে স্বর্ণালংকার বিক্রি করায়।
চোরের শ্বাশুড়ি কুলছুমা বেগম জানান, তাঁর জামাই বলেছে স্বর্ণ কুড়িয়ে পেয়েছে। ‘ভাই ভাই শিল্পালয় অ্যান্ড জুয়েলার্স’ তাঁর পরিচিত হওয়ায় তিনি সেখানে গিয়ে একটি স্বর্ণের চেইন এক লাখ ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
এদিকে স্বর্ণ ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই জুয়েলার্সের কর্মচারীরা বলেন, তারা টাকা দিয়ে স্বর্ণটি কিনেছেন। তবে দোকানের মালিক শ্যামল দাসকে পাওয়া যায়নি, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় আরেক স্বর্ণব্যবসায়ী শঙ্কর দাস বলেন, কুলছুমা বেগম যখন স্বর্ণ বিক্রি করেন তখন আমরা উপস্থিত ছিলাম। যেহেতু এগুলো চোরাই মাল, তাই বিক্রেতা কুলছুমা বেগমকে উপস্থিত রেখে স্বর্ণ উদ্ধার অভিযানে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।