রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান ভস্মীভূত, ক্ষয়ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ এম
শাহরাস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান ভস্মীভূত, ক্ষয়ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা
শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউপির শোরসাক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে দোকান গুলোতে থাকা মালামালসহ প্রায়  ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।সোমবার দিবাগত রাত (৩০ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চিৎকার দিয়ে লোকজনকে জড়ো করেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বড় ধরনের আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর হোসেনের সিএনজি ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের দোকান, দেলোয়ার হোসেনের ও রহমানের দুটি চায়ের দোকান এবং সাদ্দাম হোসেনের লেপ-তোষকের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকানগুলোতে থাকা মালামালসহ প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জাহাঙ্গীর হোসেনের দোকানেই প্রায় ১৫  লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া বাকি ১০ লক্ষ টাকার মালমাল লেপ তোষকের দোকান ও দুটি চা দোকানের আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নাসিম রেজা নীলুর নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন। ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নাসিম রেজা নীলু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় আশপাশের আরও অনেক দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেন।
ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আমরা অনুধাবন করছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সোহেল রানা পাপ্পু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জালাল খোকন, ইউপি বিএনপির সভাপতি আলী আকবর বেপারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, বাজার কমিটির সভাপতি আলম মোল্লা, যুবদল নেতা সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।