শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

দুই এমপির সমন্বিত উদ্যোগে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার-সিলেট ট্রেন চালুর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:১৪ এম
দুই এমপির সমন্বিত উদ্যোগে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার-সিলেট ট্রেন চালুর নির্দেশ

চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ এবং চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হকের যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু এবং পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনসমূহ পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত (স্মারক নং: ০৩.০০.২৬৯০.০০০.০০৫.১৪.০০০১.২৬-২২৭) এক পত্রে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ এবং চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৃথক নয়, যৌথভাবে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেট রুটে নতুন ট্রেন চালু এবং পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনসমূহ পুনরায় চালুর আবেদন জানান। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরবাসীর অন্যতম দাবি ছিল সরাসরি কক্সবাজার ও সিলেটে ট্রেন যোগাযোগ চালু করা। বর্তমানে এসব গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের একাধিকবার ট্রেন বা বাস পরিবর্তন করতে হয়, যা সময় ও ভোগান্তি—দুই-ই বাড়ায়। একই সঙ্গে লোকসানের অজুহাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি ট্রেন পুনরায় চালুর দাবিও ছিল স্থানীয়দের।

Model Hospital

এ বিষয়ে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, “চাঁদপুরের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও আধুনিক করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক বলেন, “চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ও সিলেটে সরাসরি ট্রেন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। আমরা চাঁদপুরের উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

এদিকে সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তের খবরে জেলার ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে চাঁদপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রুটের সম্ভাব্যতা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং কোচ প্রাপ্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত নির্দেশনার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।