শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ সম্পন্ন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৮ পিএম
মতলব দক্ষিণে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ সম্পন্ন

মতলব দক্ষিণে নিবন্ধনকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের উদ্ধোধন করেন ইউএনও কেএম ইশমাম।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।
২০ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত মতলব দক্ষিণ উপজেলা খাদ্য গুদামের আয়োজনে নিবন্ধিত কৃষক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কার্ডধারী প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়। মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম ইশমাম এ ধান ক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্ধোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার চৈতন্য পাল, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা খালেদা আক্তার, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরামুল ইসলাম খন্দকার।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বোরো মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়। চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা (প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।একজন কৃষক সর্বনিম্ন ১২০ কেজি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি গুদামে সরবরাহ করেছেন। নিবন্ধিত ও কৃষি কার্ডধারী কৃষককে ধান বিক্রয়ের টাকা সোনালী ব্যাংক মতলব শাখার নিজ একাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি উৎস কর মোট দামের ০.৫% হারে প্রতি মেট্রিকটনে ১৮০ টাকা চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দিতে হয়েছে। মতলব দক্ষিণ এলএসডিতে মোট বরাদ্দ ৩০০.০০০ মেট্রিকটন ধান। কৃষি অফিস হতে কৃষকের তালিকা প্রেরণ করা হয় ২২৮ জনের। আগে আসলে আগে  পাবেন ভিত্তিতে ধান বিক্রি করতে পারবে সে নিয়মের ভিত্তিতে ১০৫ জন কৃষক হতে ৩০০.০০০ মেট্টিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
ধান বিক্রি করতে আসা খাদেরগাঁও ইউনিয়নের  নিবন্ধনকৃত কৃষক মো: মোস্তফা কামাল বলেন,তিনি
প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা (প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা) ধরে ৩ মেট্রিকটন ধান বিক্রি করেছেন মতলব খাদ্য গুদামে।সোনালী ব্যাংকের নিজ একাউন্টে দেয়া   টাকা উঠানো হয়।
উৎস কর বাবদ মোট দামের ০.৫% হারে প্রতি মেট্রিকটনে ১৮০ টাকা চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দিতে হয়েছে। দক্ষিণ বাইশপুর গ্রামের কৃষক রেহান সরকার এবং চরমুকুন্দী গ্রামের জয়নাল বকাউল ও মুনছবদী গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত সরকার আমলে আমরা এভাবে ধান বিক্রয় করতে পারিনি। এবার দামও বেশী পেয়েছি এবং সঠিকভাবে ধান বিক্রি করতে পেরেছি। কোন ধরনের দালালের খপ্পরে পড়তে হয়নি।
কৃষি অফিসের দেয়া তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধন করার পর কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সঠিক দামে ধান বিক্রি করতে পেরে আমরা মহা খুশি।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।