রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে ‘ক্যারফা ফারুক’ বলায় সংঘর্ষ জড়িয়ে ১০ দোকান ভাঙচুর, আহত-৮

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
চাঁদপুরে ‘ক্যারফা ফারুক’ বলায় সংঘর্ষ জড়িয়ে ১০ দোকান ভাঙচুর, আহত-৮

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ‘ক্যারফা ফারুক’ বলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে ৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার খিলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারের প্রসাধনী ব্যবসায়ী টিটু ও অপর ব্যবসায়ী ফারুক হোসেনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় ফারুক হোসেনকে ‘ক্যারফা ফারুক’ হিসেবে আখ্যায়িত করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাতে উভয় পক্ষ (খিলা বাজার ও পাথৈর গ্রামের) লোকজন জড়ো করে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে হামলা করে প্রায় ১০টি দোকান ভাঙচুর করে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নোমান নকশা হাউস, জনতা ফার্মেসি, জহিরুল ইসলামের বেডিং স্টোর, মাস্টার টেলিকম, সাইফুল স্টোর, সেবা ফার্মেসি, মেডিসিন কর্নার, ফয়েজের হোটেল, ফজর আলী সুবেদারের স মিল এবং একটি সেলুন। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ব্যবসায়ী নোমান হোসেন জানান, তার দোকানের মোটর লুট করে নেওয়া হয়েছে। সাইফুল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, তার দোকানের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Model Hospital

খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহতরা হলেন ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম হোসেন, ব্যবসায়ী মিঠু, ফল ব্যবসায়ী আমির হোসেন, ব্যবসায়ী অপু এবং আনু মিয়ার ছেলে সবুজ। এছাড়াও অনেকেই আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।