শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

“ডিভোর্স যেই দিক না কেন, দেনমোহর দিতে স্বামী বাধ্য”

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
“ডিভোর্স যেই দিক না কেন, দেনমোহর দিতে স্বামী বাধ্য”

হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিয়েতে নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধে স্বামী সবসময়ই বাধ্য এবং ডিভোর্স কে দিয়েছেন, সেটি এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।

রোববার (৫ জুলাই) বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, দেনমোহর ইসলামি শরিয়াহ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্ত্রীর বৈধ অধিকার। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর বা বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর আইনগত দায়িত্ব। ডিভোর্স স্বামী বা স্ত্রী—যেই দিক না কেন, দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে স্বামী অব্যাহতি পান না।

তিনি বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বিত দেনমোহর দীর্ঘ সময় পরও আগের নির্ধারিত অর্থমূল্যেই পরিশোধ করা হয়, যা নারীর ন্যায্য আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

Model Hospital

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ ২০ বছর আগে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হলে এক লাখ টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ এবং বাকি এক লাখ টাকা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে দুই দশক পর বিচ্ছেদের সময় সেই একই এক লাখ টাকা পরিশোধ করে দায় শেষ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা পরিবর্তিত হওয়ায় এটি প্রকৃত অর্থে ন্যায়সংগত নয় এবং দেনমোহরের মূল উদ্দেশ্য—নারীর আর্থিক সুরক্ষা—ব্যাহত হয়।

এ কারণে বিবাহের এক বছর পর বা তার বেশি সময় পরে পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্যায়ন, আদায় পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

এছাড়া, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার অধীনে দেনমোহর আদায়ে একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবাহের তারিখের এক বছর পর প্রদেয় দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি নির্ধারণের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক অধিকার সংরক্ষণ, আইনের অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শাহতলীতে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সমাপনী অনুষ্ঠিত

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চলবে : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চলবে : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী

শাহতলীতে শহীদ জিয়ার স্মরণে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সমাপনী খেলায় চ্যাম্পিয়ান মান্দারী স্পোটিং ক্লাব দলকে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে শাহতলী এক্সপ্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মাদক বিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ মাঠে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী খেলার উদ্বোধন করেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদী।

পরে বিকাল ৫টায় জিলানী চিশতী কলেজ মিলনায়তনে ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো: মোশারফ কারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা যায়। তরুণদের খেলাধুলা প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চলবে। কেউ আইন হাতে নিবেন না, কোন মাদক ব্যবসায়ীকে দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দিবেন।

Model Hospital

তিনি বলেন, যুবসমাজকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাদকের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে হবে। যুব সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে হবে। যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ বির্ণিমানেে কারিগড়। যুবসমাজ খেলায় ব্যস্ত থাকলে, মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে দূরে থাকবে। সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে খেলার বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে তরুণেরা মাদকের পথ এড়িয়ে, দেশের ইতিবাচক ও গঠনমূলক নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে। খেলাধুলা তরুণদের অলস সময়কে ইতিবাচকভাবে পূরণ করে, ফলে মাদক গ্রহণ বা অপরাধমূলক কাজে জড়ানোর সুযোগ কমে যায়।

প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সাহেব মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছেন। তিনি চাঁদপুরকে মাদকমুক্ত করতে কাজ করছেন৷ কিশোর গ্যাং এবং ভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। চাঁদপুরের উন্নয়নে মানিক ভাই কাজ করছেন।

৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর মিজির পরিচালনায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এম বাকের খন্দকার, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম (বাবলু)।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদ, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল আজিজ মিজি, ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো: মাহবুব খান বাবলু, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম বেপারী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মজিব কারী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন তাতীদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত গাজী, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো: শওকত কারী, ইউনিয়ন মৎস্যজীবি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ গাজী, ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো: সফিক কারী, সমাজসেবক মো: নুরুজ্জামান মুন্সি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: রিপন মিজি, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠিনক সম্পাদক পারভেজ মিজি, সমাজসেবক ও শাহতলী বাজারের ব্যবসায়ী মো: আনোয়ার গাজী, বালু ব্যবসায়ী মো: জাহাঙ্গীর মিজিসহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সুধীজন, দর্শকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দগণকে ক্রেস্ট প্রদান করেন শাহতলী এক্সপ্রেস সংগঠনের নেতৃবৃন্দ৷

শহীদ জিয়ার স্মরণে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সর্বমোট ৩২টি দল অংশগ্রহন করে। এর মধ্যে ফাইনাল খেলায় মান্দারী স্পোটিং ক্লাব দল ও এসকে স্পোটিং ক্লাব দল অংশগ্রহন করে। ফাইনালে ০-১গোলে চ্যাম্পিয়ান হয় মান্দারী স্পোটিং ক্লাব এবং রানার্সআপ হয় এসকে স্পোটিং ক্লাব। খেলায় চ্যাম্পিয়ান মান্দারী স্পোটিং ক্লাব দল ও রানার্সআপ এসকে স্পোটিং ক্লাব দলকে পুরস্কার ও খেলোয়ারদের মেডেল প্রদান করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ।

শেষে সভাপতির বক্তব্য রাখেন ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো: মোশারফ কারী।