শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

উন্নত পল্লী গড়তে সমবায়ের বিকল্প নেই : এমপি মমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
উন্নত পল্লী গড়তে সমবায়ের বিকল্প নেই : এমপি মমিনুল হক

হাজীগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় দিবস-২০২৬। “উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

তিনি বলেন, “একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে ওঠে গ্রামের উন্নয়নের মাধ্যমে। সমবায়ের মূল শক্তি হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, সততা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। সমবায়কে আধুনিক ও স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

Model Hospital

সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।”

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজালালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম এ রহিম পাটোয়ারী, হাজীগঞ্জ উপজেলা সমবায় সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসিব আব্দুল্লাহ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সমবায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারজনকে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। ঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রমে সেম্ভু চন্দ্র বর্মন, একক উদ্যোক্তা হিসেবে খোকন চন্দ্র রায় ও আরিফুল ইসলাম এবং মৎস্য চাষে লিপি রানী দাস সম্মাননা লাভ করেন।

সমবায়ী কবির হোসেনের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সমবায়ীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শেষ হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।