শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

যোগ্য শিক্ষক রেখে প্রাথমিক শিক্ষক দিয়ে দাখিলের খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
যোগ্য শিক্ষক রেখে প্রাথমিক শিক্ষক দিয়ে দাখিলের খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহ তথ্য গোপন ও অনিয়মের মাধ্যমে যোগ্যতাহীন এক এবতেদায়ি (পঞ্চম শ্রেণি) শিক্ষককে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পাইয়ে দিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানে দাখিল স্তরের যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সুপারিশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই শিক্ষক দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একইভাবে দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের সুপারিশ ছাড়া এ দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিওভুক্ত নীতিমালা–২০২৫’-এর ১৮.১ (গ) উপধারার পরিপন্থী। ওই বিধানে ভুয়া বা অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন কিংবা জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এবতেদায়ি শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক হয়েও দাখিল পরীক্ষার বোর্ডের খাতা মূল্যায়ন করেছি। খাতা মূল্যায়নের নিয়মনীতি আমার জানা নেই। আমি অনেক বছর ধরেই বোর্ডের খাতা দেখে আসছি। সুপার হুজুরের স্বাক্ষরিত সুপারিশেই আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
মাদ্রাসার সুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কবিরা গুনাহ করেছি, আমাকে মাফ করে দিন।” তবে অভিযোগে উল্লেখিত অনিয়ম, তথ্য গোপন বা দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া চলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি সত্য হলে এটি এমপিও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।