বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মসজিদে এশার আজান দেওয়া অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম
মসজিদে এশার আজান দেওয়া অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিনুল ইসলাম গোপিনাথপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি, প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Model Hospital

স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন আলেম। ইমামতি, কোরআনের শিক্ষা এবং নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিশেষ সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে মসজিদের মুসল্লি, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিহতের স্ত্রীর ভাই ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ

সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসার বার্ষিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন।

চাঁদপুর শহরের আদশ্য বিদ্যাপীঠ আনোয়ারা -মতিউর মডেল মাদরাসায় বার্ষিক ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী জিটি রোড উত্তর এলাকাস্থ মাদরাসা মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন। তিনি বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা অর্জন করতে ইসলাম তাগিদ প্রদান করেছেন। আর সেই আলোকে যদি আমরা শিক্ষা অর্জন করি— তাহলে সেটা হবে নিজের জন্য, দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য। সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রমিত বৃথা যাবে। তাই সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে বাবা মাকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। পাশাপাশি তারা যেন এমন শিক্ষা পায়, যা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

তিনি বলেন, পৌরসভার নাগরিক হিসেবে ১৫নং ওয়ার্ড উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। তার সাথে লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে। বিশেষ করে জিটি রোড উত্তর এলাকার মানুষের জীবন যাপন দেখলে বুঝা যায়, তারা রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা থেকে কতটা পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয় এখানকার নাগরিকদের শুধুমাত্র ভোট আর ট্যাক্সের জন্য পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পৌরসভার সেবা দিতে নয়। আপনাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে, আগামীতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অনেক বেশি সর্তককে এবং দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন ব্যক্তিকে পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন, যিনি সত্যিকার অর্থে আপনার আমানতের প্রতিদান দিবে।

আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, সমাজকে উন্নত করতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর সেই শিক্ষাটা হতে হবে আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা। বর্তমানে চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব কিশোরগ্যাং ও মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এমনসব সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে নানাবিধ উদ্যোগ গ্ৰহণ করছেন। আমাদের সাংবাদিক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজী তার বাবা মায়ের নামে জিটি রোড এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন‌‌। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চা এবং শৃঙ্খলা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এজন্য আমার পক্ষ থেকে মাওলানা মোঃ আবদুর রহমানসহ সকল শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

Model Hospital

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ সুমন খান ও দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল হক বেপারী।

মাদরাসার শিক্ষক মহিবুর রহমান মহিব্বুলাহর সঞ্চালনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মাদরাসার শিক্ষক মোঃ রাশেদ হোসেন, মোঃ আঃ ছাত্তার খাঁন ও আব্দুল আলী আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ( গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য)  আশিক বিন রহিম, এলাকার মুরব্বি ও শিক্ষানুরাগী মোঃ মিজানুর রহমান মিজি, মোঃ লোকমান হোসেন তালুকদার, মাদরাসার শিক্ষক মোঃ আবুল খায়ের, মোঃ জসিম উদ্দিন ও বোরহান সাইফ।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও কবিতা আবৃতিতে শ্রেণীভিত্তিক অংশ নেন। বিজয়ীদের আগামী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বাদ মাগরিব পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অভিভাবক সমাবেশ শেষে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন।