শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষায় দেশ সেরা কর্মচারী হাজীগঞ্জের ফরিদুল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৪ এম
প্রাথমিক শিক্ষায় দেশ সেরা কর্মচারী হাজীগঞ্জের ফরিদুল

প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মচারী নির্বাচিত হয়েছেন প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই), ফেনীতে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মোঃ ফরিদুল ইসলাম। ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক জাতীয় পর্যায়ের বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত ফলাফলে তাকে এই গৌরবময় স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আগামী ১৫ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশকে সবুজায়ন করার লক্ষ্যে ১৫ জুলাই ২০২৬ পদক বিতরণ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গাছের চারা রোপন করবেন-যা সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার করা হবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষ রোপনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি মিলে মোট ০৫ টি বৃক্ষ রোপনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এর আগে ২০১৩ সালে তিনি প্রথম সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে ‘Administration for Service to People’ নীতিকে ধারণ করে শতভাগ সততা ও নিষ্ঠার সাথে সেবা প্রদান করে আসছেন তিনি।

Model Hospital

মোঃ ফরিদুল ইসলাম ১৯৮৭ সালের ১ মার্চ চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন ২ নং বাকিলা ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজুল ইসলাম (অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী, কাপাইকাপ মাদ্রাসা)। মা ফাতেমা বেগম (গৃহিণী)।

মোঃ ফরিদুল ইসলামের এই সাফল্যের পাশাপাশি তার পরিবারে যুক্ত হয়েছে দ্বিগুণ আনন্দ। তার স্ত্রী মোসাঃ কামরুননাহার মুক্তা এ বছর কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ‘শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা)’ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা জেলাধীন চৌদ্দগ্রামের পদুয়া (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি ২০০১ সালে ও ২০০৩ সালে স্থানীয় কাপাইকাপ ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসা হতে দাখিল ও আলিম পাশ করেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য রাজধানী ঢাকায় পাড়ি দেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০০৮ সালে স্নাতক ও ২০০৯ সালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বড় ছেলে আদিল ফারহান বিন ফরিদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে ফাবিহা আকসা বিনতে ফরিদ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

কর্মক্ষেত্রে সততার এই স্বীকৃতি পাওয়ায় মোঃ ফরিদুল ইসলাম মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির সেবায় আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।