শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

একই সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল দুই জমজ বোন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
একই সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল দুই জমজ বোন
একই দিনে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। এবার প্রাথমিক শিক্ষাবৃত্তি-২০২৫ পরীক্ষায়ও একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার দুই জমজ বোন।
মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থী হলেন মায়মুনা আক্তার ও মুনতাহা আক্তার।
তারা শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ও গৃহিণী নাছিমা আক্তারের কন্যা। দুই মেয়ের একযোগে এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, বিদ্যালয় এবং স্বজনদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঘড়িহানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে মায়মুনা ও মুনতাহা—উভয়েই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে।
বর্তমানে তারা বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই দুই বোনের পড়াশোনার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। নিয়মিত অধ্যয়ন, একে অপরকে সহযোগিতা করা এবং পরিবারের সার্বক্ষণিক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই তাদের এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।
শিক্ষক বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, “এটি মহান আল্লাহর অশেষ রহমত। আমরা চাই, মেয়েরা ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলুক এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখুক।”
ঘড়িহানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাংবাদিক ইকবাল হোসেন বলেন, “একই পরিবারের দুই জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন নিঃসন্দেহে একটি বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্য শুধু পরিবারের নয়, পুরো ফরিদগঞ্জবাসীর জন্যই গর্বের। আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।