রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

বিউটি পার্লার মালিক স্বপ্নার সাথে কি হয়েছিল?

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম
বিউটি পার্লার মালিক স্বপ্নার সাথে কি হয়েছিল?
শাহরাস্তি  উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমুন নাহার স্বপ্না (প্রায় ৩৩) নামে এক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও প্রবাসীর স্ত্রী এবং  স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারের পরিচালিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) শাহরাস্তি পৌর এলাকার দোয়াভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে নিউ লাইফ হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ,  নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়,  নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্না কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর ইউপির  বাংলাইস গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নজরুল ইসলাম ও ফিরোজা বেগম দম্পতির কন্যা। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তাঁর বড় ভাই মোতালেব হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও  জানা যায়, স্বপ্না উপজেলার  খিলা বাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একাধিকবার বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন। প্রথমে ওমর ফারুকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ওই সংসারে তাঁদের ২ টি সন্তান  রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির  বেরকী গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনকে বিয়ে করেন। সে ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরে সেই সম্পর্কও বিচ্ছেদে গড়ায়। সর্বশেষ একই ইউপির  কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজুর সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। এ সংসারে তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাত্র চার দিন আগে তিনি পৌর শহরের দোয়াভাঙ্গা নিউ লাইফ হাসপাতালের পঞ্চম তলায় দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। বাসার মালিক মেহেদী হাসান জানান, প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজু তাঁর পরিচয়ে ওই বাসাটি ভাড়া নেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার কোনো এক সময় তিনি গলায় ফাঁস দেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তাঁর শিশু সন্তানরা কান্নাকাটি করতে করতে নিচে নেমে এলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা বাসায় গিয়ে স্বপ্নাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমশেদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান  বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে একটি ইউডি মামলা রুজু করেন।
উল্লেখ্য, নাজমুন নাহার স্বপ্না ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।