বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ডাকাতি কান্ডে গৃহবধূ খুন, দেবরের বউ আহত! 

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ডাকাতি কান্ডে গৃহবধূ খুন, দেবরের বউ আহত! 
শাহরাস্তিতে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হামলায় রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।
এ সময় তার দেবরের বউ  কাজী সুমাইয়া আক্তার (২৪) গুরুতর আহত হন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত কোন একসময়  শাহরাস্তি পৌরশহরের  ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বার্ত্তলা মহল্লায়  বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিগান আক্তার মিম ওই বাড়ির  মৃত সেলিম বেপারীর পুত্র সাইফুল আলম রনির  স্ত্রী । তিনি আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী।নিহতের  (তার) স্বামী রনি ঢাকায় ব্যবসা  করেন। ওই  সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু অবস্থান করছিল।
ডাকাত দলের হামলায় আহত কাজী সুমাইয়া আক্তার জানান, রাতের কোনো একসময় মুখ বাঁধা দুই ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে ছুরির মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল দাবি করে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমারিতে  রক্ষিত  থাকা আরও এক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে পাশের কক্ষে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর পাশের ঘর থেকে বড় ভাসুরের  স্রী (জায়ের) চিৎকার শুনতে পেলেও বাঁধা অবস্থায় তিনি এগিয়ে যেতে পারেননি।পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
চিৎকার শুনে জেগে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেট ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জানালায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেন এবং মসজিদের মাইকে ডাকাতির ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গেট খুলে ঘরে প্রবেশ করলে ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় এবং অপর কক্ষে মিমকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।
স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে উদ্ধার করলেও চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ওই ঘটনা চাউর হলে  নিহতের বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা ছুটে আসেন। দুই শিশু সন্তানকে জড়িয়ে তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।নিহতের এক স্বজন বলেন, মিম ছিল খুবই শান্ত ও সংসারী মেয়ে। ছোট দুটি সন্তানকে রেখে এভাবে চলে যাবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। নিহতের স্বামী সাইফুল আলম বাড়ি ফিরে গণমাধ্যমের নিকট বলেন,আমি  দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
ওই রাতে খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়।
শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে হঠাৎ করে এমন একটি হত্যাকান্ডে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital