মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এটি তাঁর অনুরূপ চতুর্থ অর্জন

দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের ‘রজতজয়ন্তী আজীবন সম্মাননা’ পেলেন কাজী শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের ‘রজতজয়ন্তী আজীবন সম্মাননা’ পেলেন কাজী শাহাদাত

চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের হাত থেকে দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের রজতজয়ন্তীতে আজীবন সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করছেন রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের দুবারের সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত চাঁদপুর জেলা সদর থেকে প্রকাশিত পাঠক সমাদৃত বহুল প্রচারিত পত্রিকা দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের ‘রজতজয়ন্তী আজীবন সম্মাননা’ পেয়েছেন। পত্রিকাটির ২৫ বছরপূর্তিতে শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল পর্বে তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন এ পর্বের প্রধান অতিথি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি।

এ সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে জনাব কাজী শাহাদাতকে প্রদত্ত পত্রে লিখা হয়েছে, চাঁদপুর জেলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং পাঠকপ্রিয় পত্রিকা ‘দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ’ গৌরবময় অগ্রযাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। দীর্ঘ পথচলায় চাঁদপুর জেলা ও দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ শুক্রবার বিকেল ৫ টায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘রজতজয়ন্তী উৎসব-২০২৬’ উদযাপিত হতে যাচ্ছে।

আপনি চাঁদপুরের স্থানীয় সংবাদপত্রের বিকাশে সুদীর্ঘকাল ধরে অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। চাঁদপুরের প্রথম দৈনিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে আপনার হাত ধরেই এই অঞ্চলের আধুনিক সাংবাদিকতার সূচনা হয়েছিল এবং আপনার দিকনির্দেশনায় বহু নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের হাতেখড়ি হয়েছে। চাঁদপুরের সাংবাদিকতা জগতে আপনার এই অভিভাবকত্ব, অগ্রণী ভূমিকা এবং আজীবনের সাধনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ‘দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ’ কর্তৃপক্ষ আপনাকে ‘রজতজয়ন্তী আজীবন সম্মাননা’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চাঁদপুর প্রবাহের রজতজয়ন্তী উৎসবের মূলমঞ্চে আপনার মতো একজন গুণী, বরেণ্য এবং আমাদের শ্রদ্ধেয় অভিভাবককে এই সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রদান করতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়।

উল্লেখ্য, দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের রজতজয়ন্তী আজীবন সম্মাননা হচ্ছে কাজী শাহাদাতের জন্যে এমন চতুর্থ  সম্মাননা। এর পূর্বে ২০১০ সালে জেলাব্যাপী বিতর্ক আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ চাঁদপুর ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিডিএম জাতীয় বিতর্ক উৎসবে বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি ডা. আব্দুন নূর তুষারের হাত থেকে তিনি প্রথম আজীবন সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।  এরপর ২০২০ সালে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের  পঞ্চাশ বছরপূর্তিতে আয়োজিত  সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কাজী শাহাদাতকে আজীবন সম্মাননা প্রদান  করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৎকালীন  সভাপতি সাইফুল আলমের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। তিনি তৃতীয় আজীবন সম্মাননা লাভ করেন শাহরাস্তি প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে। ২০২৩ সালে এ প্রেসক্লাবের জাঁকজমকপূর্ণ  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তৎকালীন স্থানীয় এমপি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের হাত থেকে এ সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। তিনি ইতঃপূর্বে  সাংবাদিকতায় তথ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ব্র্যাক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ও সাহিত্যচর্চার জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্যের হাত থেকে জাতীয় সাহিত্য পরিষদ পদক গ্রহণ করেন। তিনি সৃজনশীল সংগঠক হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি পদক ও সাহিত্য সংগঠক হিসেবে  সাহিত্য মঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনে নাসিরউদ্দীন পদক লাভ করেন। গত শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর-এর ৪০ বছরপূর্তিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কাজী শাহাদাতকে এ একাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান সম্পাদক হিসেবে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের হাত থেকে এ স্মারক গ্রহণ করেন। তিনি সাংবাদিতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ, দৈনিক শপথ ও দৈনিক নয়া প্রভাতের পক্ষ থেকেও সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে বেগম রোকেয়া স্মৃতি পদক পাওয়ায় চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। তিনি ২০১০ সালে বিশ্বের সবচে’ বড় সমাজসেবামূলক সংগঠন রোটারী ইন্টারন্যাশনালের আওতাভুক্ত দি রোটারী ফাউন্ডেশনের পল হ্যারিস ফেলো (পিএইচএফ) হয়েছেন, ২০১০-২০১১ রোটারী বর্ষে চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বপালন করেন এবং রোটারী  জেলা ৩২৮২-এর সাবেক গভর্নর প্রফেসর তৈয়ব চৌধুরী কর্তৃক বেস্ট লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। এছাড়া চাঁদপুর হিলশা সিটি রোটারী ক্লাব প্রতিষ্ঠায় গভর্নরস্ স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্বপালন করায় তৎকালীন রোটারী ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান পীর কর্তৃক পুরস্কৃত হন। পদক, সম্মাননা ও পুরস্কার প্রাপ্তিতে তাঁর আরো অনেক সাফল্য রয়েছে।

Model Hospital

কাজী শাহাদাতের সহধর্মিণী মাহমুদা খানম  রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন, চাঁদপুর-এর অধ্যক্ষ, যিনি চাঁদপুর হিলশা সিটি রোটারী ক্লাবের চার্টার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চাঁদপুর সেন্ট্রাল ইনার হুইল ক্লাবের পাঁচবারের সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক নারী সংহঠন ইনার হুইলের আন্তর্জাতিক জেলা ৩২৮ কর্তৃক গেলো জুন মাসে মর্যাদাপূর্ণ ‘ব্রেকিং দ্যা বেরিয়ার্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত। তাঁর বড় সন্তান কাজী আজিজুল হাকিম নাহিন বাংলাদেশে রোটারীর দ্বিতীয় যুব সংগঠন চাঁদপুর রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের ৪৯ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্বপালন করেন।

কাজী শাহাদাতের পৈত্রিক নিবাস হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বলাখাল গ্রামে। তাঁর পিতা বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক স্টেশন মাস্টার কাজী ছেফায়েত উল্লাহ ও মা জোবায়দা বেগম। তাঁরা দুজনই গতায়ু।

কাজী শাহাদাত দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের রজতজয়ন্তী আজীবন সম্মাননা অর্জন করায় মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করেন এবং চাঁদপুর প্রবাহ পরিবারের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।