বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অটোরিকশা চালকের অসতর্কতায় ঝরল শিশু হাফসার প্রাণ

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
শাহরাস্তিতে অটোরিকশা চালকের অসতর্কতায় ঝরল শিশু হাফসার প্রাণ
শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী বাজারে চাবি লাগানো অবস্থায় রেখে যাওয়া একটি অটোরিকশা হঠাৎ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে দোকানে বসে থাকা এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে চিতোষী বাজারের আবু বক্কর মসজিদ সংলগ্ন হাফসা সাজঘরের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অটোরিকশার চালক পালিয়ে গেছে।নিহত হাফসা বেগম (১১) চিতোষী পূর্ব ইউপির  চাঁন্দল গ্রামের পদ্মারপাড় এলাকার ব্যবসায়ী মো. হামিদের মেয়ে। সে চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ইউপির মনিপুর মিজি বাড়ির আব্দুল কাইয়ুম এর পুত্র  অটোরিকশা চালক মো. মোরশেদ (৩৫), চিতোষী বাজারে এসে আবু বক্কর মসজিদের পাশে অটোটি দাঁড় করিয়ে চাবি গাড়িতে লাগানো অবস্থায় রেখে পাশের একটি দোকানে যান।
এ সময় চালকের আসনের পাশে থাকা প্রায় তিন বছর বয়সী একটি শিশু খেলার ছলে অটোরিকশার পিকআপে চাপ দিলে গাড়িটি হঠাৎ দ্রুতগতিতে সামনে ছুটে গিয়ে হাফসা সাজঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় দোকানের ভেতরে বসে থাকা হাফসা বেগম অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই অটোরিকশার চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চিতোষী বাজার ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, চালকের চরম অসতর্কতার কারণেই একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী চালকের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।