বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় জমিজামা বিরোধে একটি পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

কচুয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
কচুয়ায় জমিজামা বিরোধে একটি পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

কচুয়ায় আদালতের রায়ের পরও নিজ জায়গার উপর দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে পুনরায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ।

কচুয়ায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে একটি পরিবারকে মামলা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার কাছে ন্যায় বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। জানা গেছে, উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের মনপুরা গ্ৰামের উকিল বাড়ির সিদ্দিকুর রহমানের পরিবার সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি জামা নিয়ে একই বাড়ির মৃত আনসার আলী ছেলে হিরু মিয়ার সাথে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে সিদ্দিকুর রহমান ও তার পরিবারকে একের পর এক লিখিত অভিযোগ ও মামলা দিয়ে যাচ্ছে হিরু মিয়া। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী সিদ্দিকুর রহমান জানান, ৮৪নং মনপুরা মৌজার ৪১৪২ দাগে বাড়ী ২১ একর ভূমির অন্দরে ১১ শতাংশ জমি সাফিয়া বেগমের কাছ থেকে জমি ক্রয় করি আমি। রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে আমি ১৬বছর ভোগ দখল রয়েছে। প্রতিপক্ষ হিরু মিয়া এই জায়গার জোরপূর্বক দখল করার জন্য মামলা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানি করে আসছে। এই জমি নিয়ে গত কয়েক মাস আগে হিরু মিয়া আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করলে স্থানীয় ভূমি অফিস সরজমিনে এসে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করেন। পরবর্তী আদালত সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ১৫ জুলাই আমার পক্ষে বিজ্ঞ আদালতের রায় দেয়। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই আমার জায়গার উপর বাড়ি বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে সে বিজ্ঞ আদালতে আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করে।

তিনি আরো জানান, আমার প্রতিপক্ষ হিরু মিয়া বাড়ির চতুর্পাশে তার জায়গায় অসৎ উদ্দেশ্যে ডোবা করে। গত কয়েক বছর আগে আমার একটি মাসুম বাচ্চা তার ডোবাতে পরে মারা যায়। এরপর সে বিভিন্নভাবে আমার পরিবারের উপর অত্যাচার ও অমানবিক কার্যকলাপ করে আসছে। আমরা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এর সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি।

প্রতিপক্ষ হিরু মিয়া বাড়িতে না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Model Hospital

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।