মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে মীম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
শাহরাস্তিতে মীম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
শাহরাস্তিতে আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মীম (২৬) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় শাহরাস্তি পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র মেহের কালিবাড়ী মাঠে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিলও করেন।
অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। তাদের কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি, মীম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কাউকেই যেন ছাড় দেওয়া না হয় এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আয়োজক, স্বজন, এলাকাবাসী, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, জানায় এ হত্যাকান্ড একটি পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেছে। দুই অবুঝ শিশুর মাথা থেকে চিরতরে সরে গেছে মায়ের স্নেহের ছায়া। সেই শোক আর ক্ষোভকে বুকে ধারণ করে  শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত মীমের বাবা মোহাম্মদ কবির হোসেন পাটোয়ারী, মা শামসুন্নাহার, চাচাতো ভাই গোলাম কিবরিয়া পাটোয়ারী, রাজনৈতিক নেতা মো. জাকির হোসেন, শিক্ষক শাহাদাত হোসেন ও শিক্ষক জামশেদ আলম পাটোয়ারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আবেগঘন বক্তব্যে মীমের বাবা মোহাম্মদ কবির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। একজন সন্তানের মৃত্যু কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নিহতের মা শামসুন্নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ের দুইটি ছোট সন্তান আজ মা-হারা। আমরা শুধু চাই, যেন প্রকৃত বিচার হয় এবং আর কোনো পরিবারকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।
চাচাতো ভাই গোলাম কিবরিয়া পাটোয়ারী বলেন, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রত্যেক দায়ী ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করলেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক নেতা মো. জাকির হোসেন বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত কারও দায় এড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। শিক্ষক শাহাদাত হোসেন ও শিক্ষক জামশেদ আলম পাটোয়ারীও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে কয়েকজন বক্তা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনার বাবা-মা এখনও ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার রাতে ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয় ও ভূমিকা উদ্ঘাটন করা হলে ঘটনার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব বক্তব্য বক্তাদের নিজস্ব দাবি ও মতামত বলে উল্লেখ করা হয় এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টা থেকে তিনটার মধ্যে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বার্ত্তলা মহল্লার বেপারী বাড়িতে রিগান আক্তার মীম নিহত হন। পরদিন ১৫ জুলাই নিহতের বাবা মোহাম্মদ কবির হোসেন শাহরাস্তি মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা (মামলা নং-২৫) দায়ের করেন।
পরে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে নিহতের দেবরের স্ত্রী কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩)-কে গ্রেপ্তার করে। ১৬ জুলাই তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানায়, ওই জবানবন্দিতে তিনি পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরে শ্বাসরোধ করে মীমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন,ঘটনার পরপরই পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। ডাকাতির গল্প সাজিয়ে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত জনতা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। শোকাহত স্বজনদের চোখের জল আর উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় একটাই প্রত্যাশা, বিচার যেন বিলম্বিত না হয়, সত্য যেন আড়াল না থাকে এবং আর কোনো পরিবার যেন এমন নির্মম পরিণতির শিকার না হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।