বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ভরণ-পোষণ চাইতেই মায়ের ওপর ছেলের হামলা, আটক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
শাহরাস্তিতে ভরণ-পোষণ চাইতেই মায়ের ওপর ছেলের হামলা, আটক
শাহরাস্তিতে মাদকের টাকার জন্য মাকে নৃশংসভাবে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক পুত্রকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউপি’র  সূচীপাড়া গ্রাম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় , ওই   ইউপির সূচীপাড়া গ্রামের (খলিল মেম্বারের বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা মৃত মো. ইলিয়াছ হোসেনের স্ত্রী রেহানা বেগম (৪৮) শাহরাস্তি মডেল থানায় নিজ ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৬)-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি শাহরাস্তি মডেল থানার এফআইআর নং-৩৯, তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬ এবং জিআর নং-২৩২ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে রেহানা বেগম একাই সংসার চালিয়ে আসছেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলেও ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে মায়ের কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় গালাগাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত ছেলে মাদকের জন্য টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে রেহানা বেগম গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. শমসেদ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে সূচীপাড়া এলাকা থেকে আসামি সাইফুল ইসলামকে আটক করেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাকে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে প্রণীত আইন বাস্তবায়নে শাহরাস্তি থানা পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিক। আদালতের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতন কিংবা পিতা-মাতার অধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের আইনগত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এ বিষয়ে অভিযুক্তের মা  রেহানা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি একজন অসহায় মা, আইনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।