শাহরাস্তিতে বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “বাল্যবিবাহকে ‘না’ বলুন।
অভিভাবকরা জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে ভয় পাবে না, বিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা সরাসরি প্রশাসনকে জানাবে। শিক্ষা ও আত্মপ্রতিষ্ঠাই সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র পথ।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির ফটিকখিরা সালামত উল্লাহ-আমেনা বেগম বালিকা উবি’তে এ সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “নিজেকে শিক্ষিত ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। শিক্ষা মানুষকে আত্মপ্রতিষ্ঠিত করে, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং জীবনের নানা দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করে। কোনো অবস্থাতেই বাল্যবিবাহকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। একজন শিক্ষিত মেয়েই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ।
তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া, বিয়েতে সহযোগিতা করা বা উৎসাহিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এবং যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক গ্রহণ বা দাবি করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজ কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এমএসসি। তিনি বলেন, “বিদ্যালয় শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলারও অন্যতম কেন্দ্র। বাল্যবিবাহ ও যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন লেখাপড়া শেষ করে স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং অভিভাবকদেরও সচেতন করবে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কন্যাশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক, ফটিকখিরা আমেনা স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মরিয়ম বেগম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভা শেষে ইউএনও মনিরা খাতুন বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হয়। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও শারীরিক সুস্থতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন।
সচেতনতামূলক এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং নারী-শিশু নির্যাতনের সামাজিক ও আইনি দিক সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি আইন মেনে সচেতন, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।