মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও অপসারণের নির্দেশ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
শাহরাস্তিতে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও অপসারণের নির্দেশ
শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির বড়তুলা এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে সরকারি অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অপরাধে এক জমির মালিককে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ ড্রেজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চার ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যথায় ড্রেজার জব্দ করে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় শাহরাস্তি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ  ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমার নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমান আদালত  পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বড়তুলা এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমির মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও আশপাশের বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।ওই ভ্রাম্যমান  আদালতে জমির মালিক নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর আওতায় তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযান শেষে অবৈধ ড্রেজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মালিকপক্ষকে চার ঘণ্টার মধ্যে ড্রেজারটি অপসারণের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্দেশ অমান্য করলে ভবিষ্যতে ড্রেজার জব্দসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা বলেন, “অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত চলবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “স্থানীয় জনগণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন বা বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন চিতোষী পূর্ব ইউপির  দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন এবং পুলিশের একটি দল।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।