বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও অপসারণের নির্দেশ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
শাহরাস্তিতে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও অপসারণের নির্দেশ
শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির বড়তুলা এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে সরকারি অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অপরাধে এক জমির মালিককে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ ড্রেজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চার ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যথায় ড্রেজার জব্দ করে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় শাহরাস্তি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ  ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমার নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমান আদালত  পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বড়তুলা এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমির মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও আশপাশের বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।ওই ভ্রাম্যমান  আদালতে জমির মালিক নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর আওতায় তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযান শেষে অবৈধ ড্রেজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মালিকপক্ষকে চার ঘণ্টার মধ্যে ড্রেজারটি অপসারণের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্দেশ অমান্য করলে ভবিষ্যতে ড্রেজার জব্দসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা বলেন, “অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত চলবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “স্থানীয় জনগণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন বা বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন চিতোষী পূর্ব ইউপির  দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন এবং পুলিশের একটি দল।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।