বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে ৭ মামলার আসামী আওলাদ খাঁনসহ গ্রেফতার ৩

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
মতলব দক্ষিণে ৭ মামলার আসামী আওলাদ খাঁনসহ গ্রেফতার ৩

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ৭ মামলার আসামী আওলাদ খাঁনসহ তিনজন গ্রেপ্তার।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৭ মামলার আসামী মো. আওলাদ খাঁন (৪০) নামে এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিকের দিকনির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ জুলাই রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সুজিত চন্দ্র দে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি আওলাদ খাঁনকে উপজেলার নারায়ণপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মো. আওলাদ খাঁন মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচঘরিয়া গ্রামের মমিন খাঁনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওলাদ খাঁন দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তার কারনে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে। মাদকের অপরাধে অভিযুক্ত আওলাদ মাদকসহ একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছে। জামিনে এসে আবারও এই ব্যবসা শুরু করে দেয় সে। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে।
একইদিন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে কাইয়ুম সরকার মুন্না (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়াও এসআই দেলোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মঙ্গলবার রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার পাঁচকিপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সফিকুল ইসলামের ছেলে নোমান মিজি (৩৯) কে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, আওলাদ খাঁনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অপর দুই আসামীদের কাছ থেকেও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং, মাদক ও অপরাধ নির্মুলে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।