বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

“আপনারা নির্ভয়ে চিকিৎসাসেবা দিন, মব-হয়রানি ও মিথ্যা অপপ্রচারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে” : এমপি মমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম
“আপনারা নির্ভয়ে চিকিৎসাসেবা দিন, মব-হয়রানি ও মিথ্যা অপপ্রচারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে” : এমপি মমিনুল হক

হাজীগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করার আহ্বান এমপি মমিনুল হকের

হাজীগঞ্জে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা বর্জ্যের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের মানবিক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, এমপি।

তিনি বলেন, হাসপাতাল ও চিকিৎসা বর্জ্য সঠিক নিয়মে ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং করা জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যান। কোনো ধরনের মব সৃষ্টি, হয়রানি বা মিথ্যা অপপ্রচারের ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শুক্রবার রাত ৯টায় নিজস্ব কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (BPHCDA), হাজীগঞ্জ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Model Hospital

সমিতির সভাপতি ডাঃ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এমপি আরও বলেন, হাজীগঞ্জের মানুষ যেন উন্নত, নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যেই সবাইকে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়িক লাভ-লোকসানের চিন্তার চেয়ে সেবার মানসিকতা নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একটি ছোট উপজেলায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ খাতকে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। যেসব প্রতিষ্ঠান লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একীভূত (মার্জার) হয়ে যৌথভাবে পরিচালনার পরামর্শও দেন।

এমপি মমিনুল হক বলেন, হাজীগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতকে আরও আধুনিক, সেবামুখী ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ইনসাফ হাসপাতালের এমডি ইব্রাহিম খান রনি, মডেল হাসপাতালের এমডি ব্যারিস্টার শাহরিয়ার আহমেদ, শাহজাহান মেমোরিয়াল হাসপাতালের এমডি ডাঃ নজিবুল আলম মিয়াজী, শাহ মিরান হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ ওয়াসিক ফয়সাল এবং ভিআইপি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ আরিফুল ইসলাম সুমন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম পাটোয়ারী, ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মুহিবুল আলম রুবেল, ডাঃ রাইছুল ইসলাম রুবেল, ডাঃ মাহমুদুর রহমান সাব্বির এবং ৫নং সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিছুর রহমান কানুসহ উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ও মালিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সমিতির সদস্য আব্দুল হান্নান।

সভা শেষে সমিতির সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, এমপি-কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।