মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ১লাখ ৩০ হাজার টাকায় সরকারি গাছ বিক্রি; সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে ১লাখ ৩০ হাজার টাকায় সরকারি গাছ বিক্রি; সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন খালের পাড়ের গাছ বিক্রির অভিযোগে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি সম্পত্তিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, গাছগুলো তাঁদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ছিল এবং সেগুলো তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি।
গত বুধবার (২২ জুলাই) ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগটি করেন চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার। এর আগে উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়ৈতলী গ্রামের আনন্দ বাজার এলাকার ১৯-বি খালের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রেইন্ট্রি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকটি গাছ বিক্রি করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, গাছগুলো তাদের মালিকানাধীন খালের পাড়ে ছিল। বিষয়টি জানার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গাছের ক্রেতা স্থানীয় হারুনুর রশিদ বলেন, তিনি সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীদের কাছ থেকে অর্থ দিয়ে গাছ কিনেছেন এবং পরে তা কেটে নিয়েছেন। গাছগুলো সরকারি সম্পত্তির কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, সরকারি খালের পাড়ে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন গাছ বিক্রির ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে জায়গা থেকে গাছ বিক্রি করা হয়েছে, সেটি তাঁদের দুই পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। তাঁর ভাষ্য, গাছগুলো তাঁর শ্বশুর রোপণ করেছিলেন। তাই নিজেদের গাছ বিক্রি করা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।