মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নদী-খালে পানি বাড়তেই চাঁদপুরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ততা, বেচাকেনায় ধুম

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
নদী-খালে পানি বাড়তেই চাঁদপুরে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ততা, বেচাকেনায় ধুম
বর্যার পানি বাড়তে শুরু করলেই বদলে যায় অনেক দৃশ্য। নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরে উঠার পাশাপাশি কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন নৌকা তৈরির কারিগররা।
উপজলার বিভিন্ন বাজারে, সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী নৌকার হাট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কাঠ কাটার শব্দ, হাতুড়ির শব্দ আর কারিগরদের ব্যস্ত সময়।
বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরনো ঐতিহ্যবাহী পেশা নৌকা তৈরি। চাঁদপুরের ধনাগোদা, পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নৌকার চাহিদাও।
এদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় নৌকা তৈরি, কেনা-বেঁচা, পুরোনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরির কারিগররা। নদী তীরবর্তী এলাকা বলেই নৌকা তৈরির ধুম দেখা যাচ্ছে এ উপজেলায়।
উপজেলার মুন্সীরহাট বাজার, নায়েরগাঁও বাজার, নারায়ণপুর বাজার, ধনারপাড়, নাগদা, বরদিয়া, মোবারকদী, ডাকঘর, বাইশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে নৌকা। আবার কোথাও কোথাও সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী নৌকার হাট। তৈরি হচ্ছে সড়কের পাশেই নৌকা। যেনো একেকটি ছোট শিল্পকেন্দ্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও কাঠ চিরানো হচ্ছে, কোথাও মাপ অনুযায়ী কাঠ (তক্তা) বসানো হচ্ছে, আবার কোথাও হাতুড়ি দিয়ে কাঠের বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগানোর কাজ চলছে। কাঠ চিরানো, তক্তা তৈরি, কাঠ মসৃণ, লোহার পাত, পেরেক দিয়ে কাঠ লাগানো সবই চলছে সমানতালে। দিন রাত পরিশ্রম করছেন কারিগররা। সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে তৈরি করা নৌকা। কিছু নৌকা আগে থেকেই রাখা হয়েছে তৈরি করে। আবার কিছু নৌকা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরির কাজ চলছে। কেউ গরু ছাগলের ঘাস কাঁটার জন্য, কেউ মাছ ধরার জন্য, আবার কেউ পরিবার নিয়ে চলাচলের জন্য কিনছেন এই নৌকা।
ব্যস্ত সময় কাটছে কারিগরদের
পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া ও ধনাগোদা এই চার নদী বেষ্টিত জনপদ চাঁদপুর জেলা। এই জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা (অঞ্চল) চরাঞ্চল। এসব অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে বছরের পর বছর। চর এলাকা থেকে বিভিন্ন কৃষিজাত ফসলাদি, বিভিন্ন হাট-বাজারে আসা-যাওয়া লোকজন পারাপার এবং মাছ শিকারের একমাত্র বাহন এই নৌকা। তাই প্রায় সারা বছরই এসব চরাঞ্চলের মানুষ নৌকার ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় এদের প্রয়োজন হয় ছোট-বড় সব ধরনের নৌকা। এবারও মতলব দক্ষিণ উপজেলাসহ বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকার অনেকেই বিভিন্ন হাট থেকে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা কেনাসহ বড় সাইজের নতুন নৌকা তৈরি এবং পুরোনো নৌকাগুলো মেরামত কাজ করছেন। জেলার মতলব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি নৌকা তৈরি হয়ে থাকে। সেই নৌকা জেলার প্রায় সব উপজেলায় কেনা বেচা হচ্ছে। জেলার বাইরে থেকেও অনেক ক্রেতা আসে নৌকা ক্রয় করতে মতলব দক্ষিণ উপজেলায়।
উপজেলার মোবারকদী এলাকার নৌকা ব্যবসায়ী হান্নান প্রধান বলেন, বর্ষা আসার দুই মাস আগে থেকেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিশেষ করে মেহগনি, কড়ই এবং চাম্বল কাঠের নৌকার চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি। ছোট ডিঙি নৌকাগুলো মানুষ বেশি কিনছে। কারণ এগুলো বর্ষায় মাছ ধরা বা যাতায়াতের জন্য সুবিধাজনক। তবে কাঠ আর লোহার সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় নৌকার দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে নৌকার অর্ডার দিচ্ছে, কারিগররা দিন-রাত কাজ করেও চাহিদা সামাল দিতে পারছি না। খেতে হচ্ছে হিমশিম। শুধু চাঁদপুর নয় আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও নৌকা কিনতে আসে ক্রেতারা।তবে বর্তমানের চেয়ে আগে নৌকা বেশি বিক্রি হতো।
দরদামে ব্যাস্ত ক্রেতারা
নৌকার ক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, ছোট নৌকার দাম একরকম, বড় ও মাঝারি নৌকার দাম ভিন্ন। সাধারণ মানের একটি নৌকা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে কম দামে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে নৌকা পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো বেশিদিন টেকসই হয় না।
নৌকা তৈরির কারিগর রাসেল বলেন, একটি নৌকা তৈরি করতে অনেক ধাপ রয়েছে। প্রথমে কাঠ নির্বাচন, তারপর কাঠ চিরানো, তক্তা তৈরি, মাপ, মাপ অনুযায়ী কাঠ বসানো,পরে লোহার পাত ও পেরেক দিয়ে জোড়া লাগানোর কাজ করতে হয়। একটি নৌকা তৈরি করতে একজন কারিগরের দুইদিন সময় লাগে। একদিনে আমাদের মজুরি দেয় এক হাজার টাকা। আমরা দিন রাত কাজ করি। কাঠসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বেশি। আমরা ক্রেতাদের ভালো মানের নৌকা দিতে সব সময় চেষ্টা করি।
নৌকা তৈরির আরেক কারিগর মো.আলমাছ বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কাজ করতে পারলে কপালে খাবার জুটে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরি কইরা সংসার চালাই। এভাবে আমাদের জীবনমান চলতে পারে না। সরকারের কাছে আমরা সহযোগিতা চাই।
নারায়ণপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর এ সময়ে নৌকা তৈরি, মেরামত এবং নতুন নৌকা কেনার হিড়িক পড়ে যায়।  মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা, গরু ছাগলের ঘাস কাটার কাজেও ব্যবহার করা হয় এসব নৌকা। শুধু বর্ষাকালে নয়, সারা বছর কম-বেশি ছোট-বড় এসব নৌকা চর এলাকার মানুষের নিত্য দিনের সঙ্গী।
আশ্বিনপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আবু সাঈদ খান বলেন, এবার অনেকেই নৌকা তৈরি করছে। বিভিন্ন হাটবাজার থেকে এক সিজনের জন্য ১০ থেকে ১২ হাতের ছোট সাইজের নৌকা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বাজার থেকে কিনে আনছে অনেকেই। ছোট নৌকা মূলত বর্ষাকালে মাছ ধরা, কৃষিকাজ এবং এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাতায়াতের জন্য বেশি ব্যবহার করা হয়। আর ১৫ থেকে ২০ হাত একটা ভালোমানের নৌকা তৈরি করতে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এটি শ্যালো ইঞ্জিন দ্বারা চালিয়ে ক্ষেত থেকে ফসলাদি আনা, দূরদূরান্ত হাট-বাজার থেকে মালামাল আনা-নেওয়া করা এবং মানুষজন পারাপারের জন্য বড় নৌকা বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে।
নৌকা একটি উপকারী বাহন। নৌকা বিক্রি করে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। তেমনি ক্রেতা নৌকা ক্রয় করেও উপকৃত হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।