বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

খেড়িহর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ ও ৩ শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : এমপি মমিনুল হক

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : এমপি মমিনুল হক
শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেড়িহর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তিনজন বিদায়ী শিক্ষকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) খেড়িহর  বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের  আয়োজনে মাঠ প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই  বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মুফতি আবুল বাসার মুন্সীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জি. মো. মমিনুল হক এমপি। তিনি তার বক্তব্য  বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। একটি আদর্শ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য  আরও বলেন, এ অঞ্চলের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল ওদুদ খাঁন ছিলেন একজন জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব। তাঁর আদর্শ, সততা ও মূল্যবোধ আজও খেড়িহরবাসীর মাঝে জীবন্ত রয়েছে। তিনি বলেন, খেড়িহর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। এখানকার মানুষ শিক্ষাকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, খেড়িহরের মতো বৃহৎ জনপদে ছোটখাটো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা হয়রানিমূলক মামলার কোনো স্থান নেই।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে যেন এ গ্রামের কোনো নিরীহ মানুষ রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার না হন। দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ও সহনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এমপি মমিনুল হক বলেন, হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির ১৫৮টি ভোটকেন্দ্রে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। এই ভালোবাসার প্রতিদান উন্নয়ন ও জনসেবার মাধ্যমে দিতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমার অঙ্গীকার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, কাদরা, কর্ণপাড়া, ল্যাবসা, শ্যামপুর, খেড়িহর ও জাফরনগরসহ এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বহু মেধাবী মানুষ তৈরি করেছে। বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব, নীতি ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুসরণীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সরকারের শিক্ষা খাতের পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে এমপি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি বয়স্ক, বিধবা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শাহরাস্তিতে মেহের ডিগ্রি কলেজ সরকারি করণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা, উপজেলা সদর স্টেডিয়াম, ১০ ইউনিয়নে ১০টি মিনি স্টেডিয়াম, ডাকাতিয়া নদী খনন এবং শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
খেড়িহরের শিক্ষা ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ গ্রামে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি বড় মাদ্রাসা রয়েছে।
এ মাদ্রাসার একজন কৃতী শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা এ অঞ্চলের শিক্ষার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশ।তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করুন, শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন। উন্নয়নের দায়িত্ব আমার। আমি চাই এই অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, শিক্ষা, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হোক।বিদায়ী শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবিদায়ী শিক্ষকদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারে তাঁদের অবদান শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁদের অভিজ্ঞতা ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পথ দেখাবে।বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য সংবর্ধনার জবাবে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শামছুল হুদা আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষকতা আমার কাছে কখনো চাকরি ছিল না, এটি ছিল একটি মহান দায়িত্ব ও মানবিক অঙ্গীকার। দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর যে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি বিশ্বাস করি, এই বিদ্যালয় ভবিষ্যতেও শিক্ষার উৎকর্ষ ধরে রেখে আরও অনেক কৃতী মানুষ গড়ে তুলবে।ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। বিদায়ী শিক্ষকদের আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা ও অভিজ্ঞতা আমাদের চলার পথে প্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁদের দেখানো পথ অনুসরণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।
মেহের ডিগ্রি কলেজের সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা কেফায়েত উল্লাহ এবং চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তফদারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলী, মাধ্যমিক শিক্ষক ও সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রহিম,শিক্ষক সমিতির  সহ- সভাপতি মাও: মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলী আজগর মিয়াজী, চেয়ারম্যান জোবায়েদুল কবির বাহাদুর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শাহরাস্তি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জসিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জিঃ এবিএম পলাশ, সদস্য সচিব আজগর হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. ছানাউর রহমান (মেশকাত), জনস্বাস্থ্য  অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক  (অব.) প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক আবু ইউসুফ আনসারী, দাতা সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমির হোসেন খোকন, জনতা ব্যাংক পিএলসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অব.) মো. মতিউর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক (তরঙ্গ)  মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, রিয়াজ ভূঁইয়া, চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বিএনপি নেতা সাহাদাত হোসেন মাস্টার এবং বিএনপি নেতা ও শিক্ষক সারওয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানেপ্রধান অতিথির হাত থেকে  সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শামছুল হুদা, সিনিয়র শিক্ষক নিখিল চন্দ্র দেবনাথ এবং অফিস স্টাফ রোকেয়া বেগমকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ  উপহার সামগ্রী প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।