বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে বাঁধের গোড়া কেটেই সংস্কার, বৃষ্টিতেই ধসে পড়ছে মাটি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
চাঁদপুরে বাঁধের গোড়া কেটেই সংস্কার, বৃষ্টিতেই ধসে পড়ছে মাটি!

নদীভাঙনের ঝুঁকি কমাতে চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাঁধের দুই পাশের সংস্কারকাজ চলছে। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই এর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, বাইরে থেকে মাটি এনে ভরাট করার পরিবর্তে বাঁধের গোড়া থেকেই ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ওপরের অংশে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেই মাটি আবার নিচে ধসে পড়ছে এবং বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।

সরেজমিনে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সুগন্ধি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংস্কার করা বাঁধের দুই পাশের অনেক স্থানে মাটি ভেঙে নিচে পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন করে ফেলা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেভাবে বাঁধের নিচের অংশ কেটে মাটি তোলা হচ্ছে, তাতে সংস্কারের পরিবর্তে বাঁধের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাটি অন্য স্থান থেকে এনে ভরাট করার কথা। কিন্তু বাস্তবে বাঁধের নিচ থেকেই মাটি কেটে ওপরে ফেলা হচ্ছে। এতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, একই পদ্ধতিতে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সংস্কারকাজ চলছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সুগন্ধি এলাকা থেকে দক্ষিণে প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু ওই অংশে সংস্কারের পর বাঁধ আগের চেয়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া মূল ঠিকাদার কাজ না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

Model Hospital

কাজে নিয়োজিত তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধি মো. মাহবুব বলেন, আমরা যতটুকু মাটি কেটেছি, সে অনুযায়ী বিল দেওয়া হবে। তবে কাজটি নিয়ে আমরা বিপাকে আছি। ঠিকাদারের পক্ষে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন কাজ তদারকি করেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলাই ভালো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের অধিকাংশ উন্নয়নকাজ স্থানীয়ভাবে সমন্বয় ও তদারকি করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঠিকাদার সরাসরি কাজ না করে তার মাধ্যমেই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম মিয়ার কার্যালয়ে গেলে তিনি কাজের অগ্রগতি, মান কিংবা তদারকি সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। এমনকি সর্বশেষ কবে তিনি কাজ পরিদর্শন করেছেন, সেটিও জানাতে পারেননি। পরে তিনি সাংবাদিকের অনুসন্ধানের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কাজ তদারকিকারী মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপনকে অবহিত করেন। কারণ নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সব কর্মকর্তাকে স্বপন নিয়ন্ত্রণ করেন।

পরে মুঠোফোনে মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি নেমে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগে সব ঠিক করে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে যতবার মাটি সরে যাবে, ততবারই সংস্কার করা হবে। প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তার কাছ থেকে নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা পাউবো বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। যেখানে ক্ষতি হবে, সেখানে আবার মাটি দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে। শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু ব্যবহার করে কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।