বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ ও হাইমচরের সাংবাদিকদের পিআইবি'র প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে

উপজেলার চোখ হিসেবে কাজ করেন মফস্বল সাংবাদিকরা : ইউএনও সেটু কুমার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ এম
উপজেলার চোখ হিসেবে কাজ করেন মফস্বল সাংবাদিকরা : ইউএনও সেটু কুমার

পিআইবি'র প্রশিক্ষণ শেষে সনদ হাতে তুলে দিচ্ছেন ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া ও পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।

বদলে যাওয়া বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সংবাদচর্চাকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও বস্তুনিষ্ঠ করার লক্ষ্য নিয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সম্পন্ন হলো প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম’ প্রশিক্ষণ। সমাপনী দিনে দক্ষ সংবাদ পরিবেশন, প্রযুক্তির যৌক্তিক ব্যবহার এবং সমাজ থেকে গুজব প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণের সনদপত্র।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে সনদ বিতরণ করা হয়।
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া।
তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের খ্যতনামা গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম দিনে ব্র্যাকের কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট সাফায়াত হোসেন, দ্বিতীয় দিনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাবিল খান জামিল এবং সমাপনী দিনে সেশন পরিচালনা করেন পিআইবির সহকারী পরিচালক ও প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।
ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলা ৩৫ জন‌ সাংবদ কর্মীদের মোবাইল জার্নালিজম, তাৎক্ষণিক লাইভ ব্রডকাস্টিং, ভিডিও এডিটিং ও এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের বাস্তবমুখী কৌশল আয়ত্ত করেন।
এসময় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২৭ জন ও হাইমচর প্রেসক্লাবের ৮ জন প্রশিক্ষণ নেয়।
প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।
এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, নুরুন্নবী নোমান, সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন, হাইমচর প্রেসক্লাবের সভাপতি মহসিন মিয়া, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, নুরুল ইসলাম ফরহাদ, সদস্য সাখাওয়াত হোসেন মিন্টু ও হাইমচর প্রেসক্লাবের সদস্য শিমুল অধিকারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, সাংবাদিকতা এখন আর কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নেই। মাঠের বাস্তব চিত্র মুহূর্তেই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আধুনিক সংবাদচর্চা। তবে প্রযুক্তির এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের চরম সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরে সমাজ থেকে সব ধরনের গুজব নির্মূল করাই সংবাদকর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের চোখ হিসেবে কাজ করেন মফস্বল সাংবাদিকরা। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন দেখেই আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করতে পারি। এ সময় তিনি ফরিদগঞ্জের সংবাদকর্মীদের পেশাগত সুবিধা ও প্রেসক্লাব অবকাঠামো উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ফরিদগঞ্জ এবং হাইমচর উপজেলার অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পিআইবি’র সনদপত্র তুলে দেন।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।