বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

৯৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ পিএম
৯৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ৭৩নং রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ ৯৬ বছর ধরে এলাকার শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহ্য, গৌরবময় ইতিহাস ও শিক্ষার মান ধরে রেখে বিদ্যালয়টি আজও এলাকাবাসীর আস্থা, ভালোবাসা ও গর্বের প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় রান্ধুনীমুড়া মনিনাগ মজুমদার বাড়ির কাশিম আলী মজুমদার, এয়াছিন মজুমদার ও সেকান্দর আলী মজুমদারের অসামান্য অবদান রয়েছে। তাঁদের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, দানশীলতা ও শিক্ষাবান্ধব মানসিকতার ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,যা আজও হাজারো শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মাহমুদ হোসেন মিঠু ও মোস্তফা মজুমদার সুমন বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করতেন,একটি শিক্ষিত সমাজই পারে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গড়ে তুলতে। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁরা এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের আস্থা ও গর্বের প্রতীক হয়ে রয়েছে। আমরা চাই,বিদ্যালয়টি আধুনিক শিক্ষা উপকরণ,উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে,৭৩নং রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক অগ্রগতির এক উজ্জ্বল সাক্ষী। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ,তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা,পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী,নিরাপদ ও মনোরম শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

Model Hospital

দীর্ঘ ৯৬ বছরের গৌরবময় পথচলায় বিদ্যালয়টি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোকিত করেছে। এখানকার অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ঐতিহ্যের এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়টি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং আদর্শ নাগরিক তৈরিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যদের।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।