বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

৯৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ পিএম
৯৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ৭৩নং রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ ৯৬ বছর ধরে এলাকার শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহ্য, গৌরবময় ইতিহাস ও শিক্ষার মান ধরে রেখে বিদ্যালয়টি আজও এলাকাবাসীর আস্থা, ভালোবাসা ও গর্বের প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় রান্ধুনীমুড়া মনিনাগ মজুমদার বাড়ির কাশিম আলী মজুমদার, এয়াছিন মজুমদার ও সেকান্দর আলী মজুমদারের অসামান্য অবদান রয়েছে। তাঁদের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, দানশীলতা ও শিক্ষাবান্ধব মানসিকতার ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,যা আজও হাজারো শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মাহমুদ হোসেন মিঠু ও মোস্তফা মজুমদার সুমন বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা বিশ্বাস করতেন,একটি শিক্ষিত সমাজই পারে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গড়ে তুলতে। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁরা এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের আস্থা ও গর্বের প্রতীক হয়ে রয়েছে। আমরা চাই,বিদ্যালয়টি আধুনিক শিক্ষা উপকরণ,উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে,৭৩নং রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক অগ্রগতির এক উজ্জ্বল সাক্ষী। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ,তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা,পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী,নিরাপদ ও মনোরম শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

Model Hospital

দীর্ঘ ৯৬ বছরের গৌরবময় পথচলায় বিদ্যালয়টি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোকিত করেছে। এখানকার অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ঐতিহ্যের এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়টি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধন, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং আদর্শ নাগরিক তৈরিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যদের।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।