বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

এদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা এখনো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত : কেন্দ্রীয় মহা-সচিব আইউব আলী হাওলাদার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
এদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা এখনো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত : কেন্দ্রীয় মহা-সচিব আইউব আলী হাওলাদার
‘এদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা এখনো তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটির মহা-সচিব মোঃ আইউব আলী হাওলাদার। তিনি বর্তমান সরকার বলেন ‘সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, কিন্তু কয়টা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবার এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এসেছে। আশা করছি মাননীয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খোঁজখবর নিবেন। ‌না হয় আওয়ামী লীগকে যেমন শেখ হাসিনার কাছে লোকেরা ডুবিয়েছে, তেমনি বিএনপিকেও একদিন প্রধানমন্ত্রীর কিছু কাছের লোকেরা ডোবাবে।
১ আগস্ট শনিবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস এলাকায় জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কর্তৃক বরাদ্দকৃত অন্ধদের মাঝে (জা.আর) চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
আইউব আলী হাওলাদার বলেন, আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান। তার স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা উচ্চ শিক্ষিত। আমরা মনে করি তার জীবনে আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে যারা রয়েছে, তাদের অনেকেই ভালো চিন্তার মানুষ না। তারা প্রধানমন্ত্রীকে সঠিকভাবে সহযোগিতা করছে না।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যে দুজন মন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন তারা আসলে কি আসলে সমাজকল্যাণমূলক কাজ করার যোগ্যতা রাখেন। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা ভেবে দেখবেন। জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির উপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী এটাকে নিজের হাতে দমন করবেন। আমাদের উপর নিপীড়ন চালালে সারাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা একত্রিত হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরাও জাতীয় প্রেসক্লাব ঘেরাও করার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু আমরা আন্দোলন চাই না। আমরা আপনাদেরই স্বজন, আমরা এ দেশের নাগরিক আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এবং চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি আইউব আলী হাওলাদার আরো বলেন, চাঁদপুরে অসংখ্য শিল্পপতি রয়েছেন। যারা চাইলেই চাঁদপুরে এমন অসংখ্য বৃক্তবান মানুষ আছে, যারা চাইলেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু চাঁদপুরের মত এতো অবহেলিত প্রতিবন্ধী বাংলাদেশের আর কোন জেলার আছে বলে আমার জানা নেই। চাঁদপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংখ্যাকে এক টন চাল দিয়েছেন। আমরা সংস্থার উদ্যোগে ৪০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে এই চালগুলো বিতরণ করা হয়েছে। আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকার তথা বিত্তশালীদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম মাঝিরং পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান মাল, হাফেজ সিরাজুল ইসলাম।  এসময় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক খান, কোষাধক্ষ সামিয়া আক্তার, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য রাও উপস্থিত ছিলেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।