মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ইসলামপুর ইসলামী মিশন হাসপাতালের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে ইসলামপুর ইসলামী মিশন হাসপাতালের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইসলামী মিশন হাসপাতালের সংস্কার এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার (১ আগস্ট) এলাকাবাসী নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে দেন।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও রড ব্যবহারের অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, সোহরাব বেপারী, মোশাররফ কাজী, বাদশা মজুমদার ও ওমর ফারুক বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই ইট, বালু, সিমেন্ট ও রডের মান নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাতে কোনো প্রতিকার হয়নি। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার নিজস্ব ইচ্ছামতো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে হাসপাতাল ও সীমানাপ্রাচীরের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাজমুশ কনস্ট্রাকশন-এর পরিচালক মো. ইমন। তিনি বলেন, প্রায় ২৫ লাখ টাকার এ কাজকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি চাঁদা দাবি করছেন। তবে তিনি কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কাজের মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণকাজের গুণগত মান ঠিক আছে। চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

Model Hospital

শাহছুফি ইয়াছিনিয়া মজিদিয়া ট্রাস্টের সদস্য আবুল খায়ের বলেন, কাজের গুণগত মান ঠিক রয়েছে। তবে এলাকার কিছু ব্যক্তি চাঁদা দাবি করায় কাজ বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেকোনো অবস্থায় কাজের মান বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পল্লী চিকিৎসক ফজলুর রহমান নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের বিষয়টি কেন্দ্র করে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদা দাবি করছেন।

ইসলামী মিশন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কামাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি কাজের মান সন্তোষজনক দেখেছেন। তবে শুক্র ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় ওই দুই দিন কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ চালানো হয়েছে। তাই ওই সময়ের কাজ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেন না।

এ বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী বলেন, কাজের গুণগত মান রক্ষা না হওয়ার বা কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।