বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির ২৮তম সাধারণ সভা

জেলা কারাগারে কয়েদিদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে : ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
জেলা কারাগারে কয়েদিদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে : ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুরে অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির ২৮তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুরে অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির ২৮তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ আগস্ট (সোমবার) সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক  সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁদপুর জেলা কারাগারে কয়েদিদের
প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে কয়েদিদের মোবাইল সার্ভিসিং, সেলাই মিশিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষনের আওতায় আনা হবে। কয়েদিদের হারমোনিয়াম, তবলা দেওয়া হবে।
সমিতি থেকে কারাগারের কয়েদিদের সহায়তা করা হবে৷ মাদক মামলার আসামী ও কয়েদিদের কাউন্সিলিং করতে হবে। কারাগারে একজন কয়েদি ও দু’জন প্রবেশনারের পুন:বার্সনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার আশিকুল ইসলাম এর পরিচালনায় সভায় অংশ নেন ও বক্তব্য রাখেন,চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী,   চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো: নুরুল আমিন বাশীর, চাঁদপুর জেল সুপার মো: জয়নাল আবেদীন ভূঁইঞা, চাঁদপুর সমাজসেবা অফিসার (নিবন্ধন) মো: মনিরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আজহারুল ইসলাম।
সভায় সমিতির আজীবন সদস্য ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর জেলা কারাগারে কয়েদিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশিক্ষণ পেলে কর্মময় জীবনে পরবর্তীতে  সমাজে অপরাধ কমবে৷ এতে কয়েদিরা সাধারণ জীবনে ফিরতে পারবে।বিশেষ করে  বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে মাদক মামলায় আটকের সংখ্যা বাড়ছে। তাই মাদক মামলার আসামীদের কাউন্সিলিং করতে হবে।
এসময় সভায় আরো অংশ নেন, কমিটির আজীবন সদস্য তোফায়েল আহমেদ শেখ,সাধারণ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, মো: আজহার মাহমুদ, মোহাম্মদ হাছান বেপারী, আজীবন সদস্য নজরুল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সদস্য সাংবাদিক মুহাম্মদ ইলিয়াছ পাটওয়ারী, সদস্য এড: রফিকুজ্জামান  রনি , মাহমুদা খানম, মো: ওয়ালিদ হোসেন,  বিল্লাল হোসেন, মো: আব্দুস সামাদ খান রাজন, সাফায়েত খান রিজন,এড:মো: আলম খান মঞ্জু, মো: আবু সফিয়ান খন্দকার, সাংবাদিক আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী।
২৮তম সাধারণ সভায় সর্বসম্মত ভাবে  চাঁদপুরে  অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির ১৫সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী নতুন কমিটি অনুমোদন করা হয়।
নতুন কমিটির সভাপতি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, সহ-সভাপতি চাঁদপুর জেলা পিপি, সহ-সভাপতি চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, সহ-সভাপতি চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার, সম্পাদক-সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার আশিকুল ইসলাম, সহ-সম্পাদক- চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, কোষাধ্যক্ষ-তোফায়েল আহম্মেদ শেখ, নির্বাহী সদস্য মাহমুদা খানম, নজরুল ইসলাম খান স্বপন, অ্যাডভোকেট আলম খান মঞ্জু, সাফায়েত খান রিজন, পি এম বিল্লাল, ওয়ালিদ হোসেন, হাসেম বেপারী প্রমুখ ।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।