মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ছাত্র-জনতার রাজপথে উল্লাস

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ এম
চাঁদপুরে ছাত্র-জনতার রাজপথে উল্লাস

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত অভ্যুত্থানে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চাঁদপুরেও পতন ঘটে স্বৈরাচারী সরকারের। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের একনায়কতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে সেদিন সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে এসে চাঁদপুর শহরকে মুক্ত ঘোষণা করেন। দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে কারফিউ ভেঙে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন।

​উত্তাল ৩ ও ৪ আগস্ট এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ:

মূল অভ্যুত্থানের ঠিক আগের দিনগুলোতেও উত্তাল ছিল চাঁদপুর। ৩ ও ৪ আগস্ট গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে ইলিশ চত্বর, স্টেডিয়াম রোড, মিশন রোড, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, হাজী মহসীন রোড ও আব্দুল করিম পাটওয়ারী সড়ক মুখরিত হয়ে ওঠে।

​শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিল জ্বালাময়ী স্লোগান— ‘দিনে করে নাটক, রাতে করে আটক’, ‘আমার খাও, আমার পর, আমাকেই গুলি কর’, ‘তোমার কোটা তুমি নাও, আমার ভাইকে ফিরিয়ে দাও’, ‘দিয়েছিতো রক্ত আরো দেব রক্ত’ ইত্যাদি। এ সময় মেয়েদের হাতে রুটি বানানো বেলুন, ডালঘুটনি, খুন্তি ও গুলাই দেখা যায়। তৎকালীন সময়ে আন্দোলন দমাতে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যান। তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের সহায়তা ছিল বলেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে তা সম্পন্ন করতে পেরেছিল। তবে এর মধ্যেও কিছু জায়গায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নারীদের লেকের পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনার নজিরও রয়েছে।

Model Hospital

​৫ আগস্ট: বিজয়ের উল্লাস ও জনস্রোত:

৫ আগস্ট সকাল থেকেই চাঁদপুরের বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশত্যাগের চূড়ান্ত খবর নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই চাঁদপুরের রাজপথে আনন্দের জোয়ার বয়। শিশু, বৃদ্ধ, শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবাই নেমে আসেন রাস্তায়।

চাঁদপুর শহরের ডিসি অফিস সামনের সড়ক থেকে বাসস্ট্যান্ড ফয়সাল শপিং কমপ্লেক্স, ইলিশ চত্বর, স্টেডিয়াম রোড, মিশন রোড, মুক্তিযোদ্ধা সড়ক এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র বাইতুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ চত্বর পরিণত হয় বিজয়ের হটস্পটে।

​বিশেষ করে বাইতুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ চত্বরে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামী দলের নেতাকর্মীসহ আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা সমবেত হয়ে বিজয় উল্লাস করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিমসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

​একদিকে ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও মর্মান্তিক স্মৃতির দিন, অন্যদিকে ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয়ের দিন হিসেবে ৫ আগস্ট চাঁদপুরের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।