বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে আদালতে মামলা পরিচালনার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম
চাঁদপুরে আদালতে মামলা পরিচালনার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন

চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন (৯৩) আর নেই।

আদালতে একটি মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর আদালতে মামলা পরিচালনার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রবীণ এই আইনজীবী। এ সময় সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

Model Hospital

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। দীর্ঘ প্রায় ৫৪ বছর ধরে তিনি চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় দায়িত্ব পালন করেন। অভিজ্ঞ ও সৎ আইনজীবী হিসেবে তিনি সহকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়।

অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের নাওভাঙ্গা গ্রামের কৃতী সন্তান। কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় তিনি চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় বসবাস করেছেন।

আইন পেশার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি ছিলেন পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তিনি অবিভক্ত মতলব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পরবর্তীতে মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরহুমের একমাত্র ছেলে সুমন বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত মরদেহ চাঁদপুর বেগম মসজিদের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে। পরে জানাজা শেষে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পৌর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিনের মৃত্যুতে চাঁদপুরের আইন অঙ্গন, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।