মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ভুয়া এনেস্থেসিয়া ডাক্তারের হয়রানি ও ইয়াবা সেবনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: কারণ দর্শানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
কচুয়ায় ভুয়া এনেস্থেসিয়া ডাক্তারের হয়রানি ও ইয়াবা সেবনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: কারণ দর্শানোর নির্দেশ

অভিযুক্ত ডা. সৈয়দ আসিফ ইষ্পাহানী ফাইল ফটো ও কর্মরত বেসরকারি হাসপাতালে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নোটিশ।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক নারী চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পুরুষ চিকিৎসক ডা. সৈয়দ আসিফ ইশতিয়াক হানি (যিনি দাপ্তরিক নথিতে ডা. সৈয়দ আসিফ ইষ্পাহানী নামেও পরিচিত) ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং চর্মরোগ সার্জন হিসেবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ এনেস্থেসিয়া প্রদান এবং হাসপাতালের রুমে বসে ইয়াবা সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক।

​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক ছদ্মনামী রূপা গত ৬ আগস্ট ২০২৬ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর আইনি নির্দেশনা প্রদান করেন।

​​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ডা. সৈয়দ আসিফ ইশতিয়াক হানি গত প্রায় দেড় বছর ধরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত নারী চিকিৎসকে বিভিন্ন উপায়ে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুপ্রস্তাব পাঠানো এবং নিজের স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্টির কথা বলে প্রেমের প্রস্তাব দেন তিনি।

​এতে ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক কোনো সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্ত ডা. সৈয়দ আসিফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ‘অহংকারী’ ও ‘দাম্ভিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়াতে শুরু করেন। এছাড়া তিনি হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ও পার্শ্ববর্তী আরেকটি হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসকের কাছেও উদ্দেশ্যেমূলকভাবে সম্মানহানিকারী নানা কথা রটান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

Model Hospital

​ভুয়া এনেস্থেসিয়া ও মাদকাসক্তির গুরুতর অভিযোগ

​অভিযোগে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত ডা. সৈয়দ আসিফ এনেস্থেসিয়া বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং বা ডিগ্রিধারী না হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত বিভিন্ন অপারেশনে এনেস্থেসিয়া প্রদান করে আসছেন, যা সাধারণ রোগীদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া তিনি হাসপাতালের নিজ কক্ষেই বসে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের মালিকপক্ষ বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও তুলনামূলক কম বেতনে চাকরি করার সুবাদে তাকে কোনো বাধা দিচ্ছেন না এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) রোগীদের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করে থাকেন।

​অভিযোগ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। গত ৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের স্মারক নং-উস্বাস্থ্যকমচ/কচুয়া/চাঁদ/২০২৬/১০৪৬ মূলে কচুয়া সিটি হাসপাতাল এবং ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/পরিচালক বরাবরে একটি জরুরি চিঠি প্রেরণ করা হয়।

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ​ডা. সৈয়দ আসিফ ইষ্পাহানীর এনেস্থেসিয়া প্রদানের কোনো বৈধ ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট না থাকায়, যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ সার্টিফিকেট অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।

​নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিএমডিসি (BMDC) সনদ বাতিলসহ বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল এবং প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক গাইনী এন্ড অবস্ ছদ্মনামী রূপা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও অপপ্রচারের চালিয়ে আসছে আমার বিরুদ্ধে ডাঃ সৈয়দ আসিফ। হাসপাতালের মালিকপক্ষ বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও তাকে কোনো বাধা দিচ্ছেন না এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) রোগীদের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ এনেস্থেসিয়া প্রদান এবং হাসপাতালের রুমে বসে ইয়াবা সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক। তার ডোপ টেস্ট করার আহ্বান জানিয়েছি এবং আমি এর সঠিক বিচার চাই।

অভিযুক্ত পুরুষ চিকিৎসক ডা. সৈয়দ আসিফ ইষ্পাহানী বলেন, এনেস্থেসিয়া বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিং বা ডিগ্রিধারী লাগে না। শুধুমাত্র রোগীদের স্বার্থে আমাকে এনেস্থেসিয়া ও সিজার অপারেশন দুইটাই করতে হয়।  আমি একজন ডাক্তার যেকোন রোগীকে এনেস্থেসিয়া দেয়া যায়।

মাদক, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও অপপ্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমি হালকা পাতলা মাদকসেবক করি ঠিক, কিন্তু কোন মাদকাসক্তি না। আজ থেকে দেড় বছর আগে তাঁর সঙ্গে আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথন হয়েছে। কোনো প্রকার যৌন হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের কথোপকথন হয়নি।

এ বিষয়ে কচুয়া সিটি হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপু চন্দ্র সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’পক্ষের সাথে বসা হবে। নারী চিকিৎসকের আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, হসপিটালে বসে মাদক সেবন করে ডাক্তার এবং কুপ্রস্তাব দেয়া এমন তথ্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

​এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা জানান, নারী চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসা খাতের অনিয়ম রোধে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আরও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।