বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ থানায় অঙ্গীকারনামা দিয়ে মাদক ছাড়লেন টোরাগড়ের শাহাদাৎ

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম
হাজীগঞ্জ থানায় অঙ্গীকারনামা দিয়ে মাদক ছাড়লেন টোরাগড়ের শাহাদাৎ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাদকদ্রব্য সেবন, বিক্রয় ও সরবরাহ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়ে হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিয়েছেন মোঃ শাহাদাৎ হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তি। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বেপারী বাড়ীর মৃত মিরন বেপারী ছেলে।

শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) হাজীগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া অঙ্গীকারনামায় শাহাদাৎ হোসেন নিজেকে হাজীগঞ্জ থানার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন।

অঙ্গীকারনামায় শাহাদাৎ হোসেন বলেন, অতীতে তার কারণে হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যুব সমাজের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং ধ্বংসের পথে ধাবিত হয়েছে। জীবিকার তাগিদে তিনি এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

অঙ্গীকারনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে হাজীগঞ্জ পৌরসভা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব সোহেল রানার নেতৃত্বে যুবদলের পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব মোঃ হুমায়ুন কবির ঝুটনসহ স্থানীয় সচেতন মহল টোরাগড় তথা হাজীগঞ্জ উপজেলায় মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তিনি মাদক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন বলে অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন।

Model Hospital

শাহাদাৎ হোসেন অঙ্গীকার করেন, ৮ আগস্ট (শনিবার) থেকে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন বা গ্রহণ, বিক্রয় কিংবা সরবরাহ করবেন না। নিজের সুন্দর আগামীর লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতার ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান।

তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে মাদকদ্রব্য সেবন, গ্রহণ, বিক্রয় কিংবা সরবরাহের সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে যেকোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তার কোনো ওজর-আপত্তি থাকবে না।

অঙ্গীকারনামার শেষে শাহাদাৎ হোসেন স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার লক্ষ্যে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানান।

এই ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে আমার কাছে অঙ্গিকার নামা জমা দিয়েছে। আমি তাদেরকে সাধুবাদ জানাই।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।