বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় মাদক ও অপকর্মের প্রতিবাদ করায় দুই যুবককে কুপিয়ে জখম 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ এম
কচুয়ায় মাদক ও অপকর্মের প্রতিবাদ করায় দুই যুবককে কুপিয়ে জখম 

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. হোসেন ও মো. শাহপরান।

​চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া এলাকায় মাদক ও নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মো. হোসেন (২৬) ও মো. শাহপরান (৩০) নামের দুই যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তাদের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্থানীয় যুবকরা প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা একাধিকবার হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ৭ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কড়ইয়া প্রাইমারী স্কুলের সামনে মো. হোসেনের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। ​

অভিযুক্তরা হলেন,  মো. শরীফ (৩০), মো. মাসুদ (৪০), মো. রাসেদ (৩২), মো. শাকিল (২৬) এবং মো. হাসান (২৮)। তারা সবাই কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া এলাকার বাসিন্দা।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাকে বেদম মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ সময় মো. মাসুদ হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র (ছোড়া) দিয়ে আঘাত করলে বাদীর বাম হাতের তালুতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

Model Hospital

​এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কড়ইয়া বিশ্বরোড এলাকায় মো. শাহপরান নামের আরেক যুবকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করে কচুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, মো. মাসুদ (৪০), মো. কবির (৪৫), মো. শরীফ (৩০), মো. সুফিয়ান (৩০), মো. রাসেদ (৩২), মো. শাকিল (২৬), মো. হাসান (২৮), মো. সুমন (২৬) এবং মো. ইসমাঈল (২৫)। তারা সবাই কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া এলাকার বাসিন্দা।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  কড়ইয়া বিশ্বরোড এলাকার একটি কনফেকশনারী দোকানের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে শাহপরানের পথরোধ করে কিল-ঘুষি মারে। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. মাসুদ হত্যার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে শাহপরানের বাম পায়ের গোড়ালিতে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়।

​পরপর দুটি হামলা ও মারধরের ঘটনায় আহত উভয় যুবক কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদের সাথে মুঠোফোনে ০১৮১১২৩৫৪৯৫ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

​এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন,  অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।