মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিক নেতা ইকরাম চৌধুরীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবে দোয়া ও মিলাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ এম
সাংবাদিক নেতা ইকরাম চৌধুরীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবে দোয়া ও মিলাদ

শাহরাস্তিতে প্রয়াত সাংবাদিক নেতা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইকরাম চৌধুরীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বাদ আসর শাহরাস্তি পৌর শহরের মেহের কালীবাড়ি বাজারে অবস্থিত শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ শেষে মরহুম ইকরাম চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার শাহরাস্তি প্রতিনিধি মো. আবুল কালাম।

দোয়া ও মিলাদ শেষে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ইকরাম চৌধুরী ছিলেন সাংবাদিকতা ও সংগঠনের ক্ষেত্রে একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি মানুষের অধিকার, এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে গেছেন। তাঁর কর্ম ও আদর্শ চাঁদপুরের সাংবাদিকতার অঙ্গনে  চীরঅম্লান হয়ে থাকবে।

Model Hospital

শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ইকরাম চৌধুরী ছিলেন একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক ও সংগঠক। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর কর্মস্মৃতি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, “ইকরাম চৌধুরীর সাংবাদিকতা ছিল মানবকল্যান কেন্দ্রিক। চাঁদপুরের গণমাধ্যমে তাঁর অবদান ও নেতৃত্ব আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করব।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির বলেন, ইকরাম চৌধুরী ছিলেন সাহসী ও মানবিক সাংবাদিক। তাঁর পেশাগত সততা এবং সংগঠকসুলভ ভূমিকা সাংবাদিক সমাজে অনুরনিত হয়ে থাকবে।

দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের শাহরাস্তি অফিস প্রধান, দৈনিক মানবজমিন প্রতিনিধি মোঃ মাসুদ রানা বলেন, ইকরাম চৌধুরী ছিলেন সাংবাদিকতার প্রতি গভীর নিবেদিতপ্রান একজন মানুষ। তাঁর আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ সাংবাদিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

আলোচনায় অন্যান্য  বক্তারা দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদপুরের মানুষের কল্যাণ ও জেলার উন্নয়নে পত্রিকাটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ইকরাম চৌধুরীর স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁর কর্ম ও আদর্শকে সামনে রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবলু, জাকির হোসেন নয়ন, মোহাম্মদ মাহবুব আলম সুমন, মনিরুজ্জামান শান্ত, মোকাদ্দেস হোসেন, ইঞ্জিঃ ইমতিয়াজ সিদ্দিকী তোহাসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানের শুরু ও শেষে মরহুম ইকরাম চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।