বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিবেন না : চাঁদপুর ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ এম
কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিবেন না : চাঁদপুর ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ আগস্ট (রবিবার) চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
জেলা প্রশাসক বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন কাজ করতে হবে।  আমাদের দায়িত্বের পরিধি আছে।  আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে, ব্যবস্থাও  নিচ্ছি। কিন্তু নিজে নিজে মাদকের অভিযান করার কোন এখতিয়ার নাই। মাদকের তথ্য পেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানালে  ব্যবস্থা নিবে,আমরা ব্যবস্থা নিবো।  মাদকের কোন তথ্য থাকলে আমাদের জানাবেন।
তিনি বলেন,চাঁদপুর পৌরসভার অধীন ম্যানহোল গ্যাস বের হওয়ার বিষয়টি পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস দেখবেন৷ হকারদের উচ্ছেদ করলে তারা কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে, সে বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুল চলাকালীন অবস্থায় কোন শিক্ষার্থী বাহিরে থাকতে পারবে না৷ বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার নিশ্চিত করবেন। বিগত ৫আগষ্ট সারাদেশের মধ্যে চাঁদপুরে জুলাই অভ্যূথানে দিবসের অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে।মাননীয় এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক মহোদয় সহযোগিতা করেছেন।জুলাই যোদ্ধা যারা রয়েছেন, সবাই আমাদের সহযোগিতা করছেন। জেলায় আইনশৃঙ্খলা অবস্থা ভালো রয়েছে ৷ আমাদের সিএনজি অটো রিক্সা অনেক কমে গেছে। যানজটেও কমে আসছে।
চাঁদপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমার পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
পুলিশ সুপার বক্তব্যে বলেন, আমরা আনইশৃঙ্খলা রক্ষায় ও যানজট নিরসনে কাজ করছি৷ অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সা আটক করছি। গাড়ি আটক করে রেখে দিলে কাগজপত্র আপডেট করে কাগজপত্র করে নিবে। আমি যতদিন আছি,  আমাকে অন্যায়ের বিষয়ে জানাবেন, আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিবো। চাঁদপুর জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কাজ করছে। আপনি ও  আমি ঠিক থাকলে রাস্তায় কেউ হকার বসাতে পারবে না। আমরা যে গাড়ি গুলো আটক করেছি, গাড়িগুলোর ফিটনেস নাই। ফিটনেস পরীক্ষা করলে গাড়ি গুলো একটাও ফিটনেস সনদ পাবে না।  মাদকের বিষয়ে আমরা খুবই এলামিং। শাহামাহমুদপুর ইউনিয়নে পাবলিক যে কাজটি করেছে এটি ভালো হয়নি।
আমার মনে হচ্ছে যে লোকটা মারা গেঁছে, তিনি কিভাবে মারা গেছে, এটা পোস্টমটেম রির্পোট আসলে বুঝা যাবে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। মাদকের ডিলার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের ডিলারদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা দেওয়া যেতে পারে।
সায় আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ  প্রফেসর এ. কে. এম. আবদুল মাননান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম এন জামিউল হিকমা, হাজীগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইবনে আল জায়েদ হোসেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেন্টু কুমার বড়ুয়া, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন, মতলব দক্ষিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম ইশমাম, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম কলি,  চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বারের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, চাঁদপুর জেলা পাবলিক প্রশিকিউটর কোহিনুর রশিদ, চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো: সফি উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ,  নারী,  শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিশেষ পিপি শিরিন, জাতীয়তা বাদী মহিলা দল চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি  অ্যাড. মুনিরা চৌধুরী , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, চাঁদপুর সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,  পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের পক্ষে পরিদর্শক ফারমিতা আহমেদ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স  এর পক্ষে এস এস ও মন্টু বিশ্বাস, জেলা মৎস কর্মকর্তা, জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আমিন (বাবু),  বিআরটির প্রতিনিধি, জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ড. কাজী হাসেম সহ কমিটির সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সাথে জেলার চুরি, ডাকাতি, মাদক পাচার প্রতিরোধ, বাজার মনিটরিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।