মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ডোবা থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে ডোবা থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার
সকালে প্রতিদিনের মতো দোকানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল অটোরিকশা মেকানিক ইব্রাহিম হাওলাদার (১৮)। কিন্তু এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। স্বজনদের দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাতে দোকানের পেছনের এক পরিত্যক্ত ডোবায় মিলল তার কাদা-মাটিতে মাখানো নিথর দেহ।
স্বজনদের দাবি-বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে লাশ উদ্ধারের স্থান ও আশেপাশে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বইছে নানা গুঞ্জন, দানা বাঁধছে নানা রহস্য।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে ইব্রাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিবারের সদস্যরা।
নিহত ইব্রাহিম ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব মাথায় মহছেন আউলিয়া হোটেল সংলগ্ন একটি দোকান ভাড়া নিয়ে অটোরিকশা মেরামতের কাজ করত।
তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার পৈতৃক বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া গ্রামে। তবে গত ১০-১২ বছর ধরে তার পরিবার ফরিদগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। নিহত ইব্রাহিমের বাবা নয়া মিয়া হাওলাদার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সরদার হিসেবে কর্মরত।
ইব্রাহিমের মা নয়নতারা  কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে সকাল ১১টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডের গ্যারেজে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। বিকেল থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে রাতে গ্যারেজের পেছনের ডোবায় টর্চলাইটের আলো ফেলি। তখন দেখি আমার ছেলে কাদা-মাটিতে নিথর হয়ে পড়ে আছে।
এদিকে ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধার হওয়া স্থান  দেখে বিষয়টি সাধারণ দুর্ঘটনা নয় বলে দাবি করছেন অনেকে।
স্কাথানীয় সাবেক উন্সিলর জাকির হোসেন গাজী জানান, রাত সাড়ে আটটার দিকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধারের খবর শুনি। যেভাবে নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এরশাদ উল্লাহ জানান, সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।