বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে এসএসসিতে পাস ৫৭.৬৮%, দাখিলে ৫৬.০৫, ভোকেশনালে ৭৪.৬৩ শতাংশ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
শাহরাস্তিতে এসএসসিতে পাস ৫৭.৬৮%, দাখিলে ৫৬.০৫, ভোকেশনালে ৭৪.৬৩ শতাংশ
শাহরাস্তিতে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাফল্য ও ব্যর্থতার বৈচিত্র্যপূর্ণ চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ মাধ্যমিকে পাসের হার ৫৭.৬৮ শতাংশ, দাখিলে ৫৬.০৫ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষায় ৭৪.৬৩ শতাংশ।
দাখিল পরীক্ষায় দুটি মাদ্রাসায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও একটি মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ৮ জনের কেউই পাস করতে পারেনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, শাহরাস্তির ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯৩ জন। পাসের হার ৫৭.৬৮ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৯২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় ও সূচীপাড়া গোলাম কিবরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭ জন করে এবং নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও মেহার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হারে ভালো করেছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল। ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৫.৪৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানের ৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৮১.৯৫ শতাংশ, মেহার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০.৬০ শতাংশ এবং খেড়িহর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯.১০ শতাংশ। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফলাফল তুলনামূলক দুর্বল হয়েছে।
বেরনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২০ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৫.০৯ শতাংশ। মৌলভী আকরাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪ জনের মধ্যে ১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাসের হার ৩৫.২৯ শতাংশ।
ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৫ জনের মধ্যে ৩৫ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৬.৮৪ শতাংশ। বলশীদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ জনের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৯.৩৪ শতাংশ।
দাখিলে পাস ৫৬.০৫ শতাংশ দাখিল পরীক্ষায় শাহরাস্তির ২১টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৭৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪১৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩২৭ জন। পাসের হার ৫৬.০৫ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। দাখিলে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ও আলহাজ সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ২৬ জন এবং আলহাজ সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ১৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া দৈয়ারা দারুস সুন্নাত মবিনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৮২.৮৬ শতাংশ, চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৮২.০৫ শতাংশ এবং যাদবপুর মুজিবুর রহমান মৃধা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৭৮.৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে দশনাপাড়া মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। ফলে পাসের হার শূন্য শতাংশ। টামটা দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৩৪.৭৮ শতাংশ এবং মাদরাসাতুল নববী খামপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৪.৬২ শতাংশ।
ভোকেশনালে পাস ৭৪.৬৩ শতাংশ
উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ এবং ১৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৭৪.৬৩ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ৩৬ জনের মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৫ শতাংশ। ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ৩১ জনের মধ্যে ২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৪.১৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ মাধ্যমিক ও দাখিলে পাসের হার যথাক্রমে ৫৭.৬৮ ও ৫৬.০৫ শতাংশ হলেও ভোকেশনালে তা ৭৪.৬৩ শতাংশ। একই সঙ্গে কোথাও শতভাগ সাফল্য, আবার কোথাও ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি এমনকি শূন্য শতাংশ পাসের চিত্রও রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানে ফল আশানুরূপ হয়নি, সেগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া হলে আগামীতে ফল আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।