শাহরাস্তিতে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাফল্য ও ব্যর্থতার বৈচিত্র্যপূর্ণ চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ মাধ্যমিকে পাসের হার ৫৭.৬৮ শতাংশ, দাখিলে ৫৬.০৫ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষায় ৭৪.৬৩ শতাংশ।
দাখিল পরীক্ষায় দুটি মাদ্রাসায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও একটি মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ৮ জনের কেউই পাস করতে পারেনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, শাহরাস্তির ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯৩ জন। পাসের হার ৫৭.৬৮ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৯২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পঞ্চগ্রাম আজিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় ও সূচীপাড়া গোলাম কিবরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭ জন করে এবং নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও মেহার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হারে ভালো করেছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল। ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৫.৪৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানের ৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৮১.৯৫ শতাংশ, মেহার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০.৬০ শতাংশ এবং খেড়িহর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৯.১০ শতাংশ। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফলাফল তুলনামূলক দুর্বল হয়েছে।
বেরনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ২০ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৫.০৯ শতাংশ। মৌলভী আকরাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪ জনের মধ্যে ১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, পাসের হার ৩৫.২৯ শতাংশ।
ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৫ জনের মধ্যে ৩৫ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৬.৮৪ শতাংশ। বলশীদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ জনের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৯.৩৪ শতাংশ।
দাখিলে পাস ৫৬.০৫ শতাংশ দাখিল পরীক্ষায় শাহরাস্তির ২১টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৭৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪১৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩২৭ জন। পাসের হার ৫৬.০৫ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। দাখিলে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ও আলহাজ সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ২৬ জন এবং আলহাজ সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় অংশ নেওয়া ১৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া দৈয়ারা দারুস সুন্নাত মবিনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৮২.৮৬ শতাংশ, চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৮২.০৫ শতাংশ এবং যাদবপুর মুজিবুর রহমান মৃধা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৭৮.৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে দশনাপাড়া মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। ফলে পাসের হার শূন্য শতাংশ। টামটা দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৩৪.৭৮ শতাংশ এবং মাদরাসাতুল নববী খামপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৪.৬২ শতাংশ।
ভোকেশনালে পাস ৭৪.৬৩ শতাংশ
উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ এবং ১৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৭৪.৬৩ শতাংশ। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ৩৬ জনের মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৫ শতাংশ। ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ৩১ জনের মধ্যে ২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৪.১৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ মাধ্যমিক ও দাখিলে পাসের হার যথাক্রমে ৫৭.৬৮ ও ৫৬.০৫ শতাংশ হলেও ভোকেশনালে তা ৭৪.৬৩ শতাংশ। একই সঙ্গে কোথাও শতভাগ সাফল্য, আবার কোথাও ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি এমনকি শূন্য শতাংশ পাসের চিত্রও রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানে ফল আশানুরূপ হয়নি, সেগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া হলে আগামীতে ফল আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।