বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ফলাফল শুনে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে হেনস্তার অভিযোগ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
শাহরাস্তিতে ফলাফল শুনে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে হেনস্তার অভিযোগ

শাহরাস্তিতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল শুনে শামীমা আক্তার মুন্নি (১৮) নামে এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর  অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনে সে  হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন উপজেলার ভোলদীঘি কামিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মৃত মুন্নি উপজেলার সুচিপাড়া উত্তর ইউপির  মাইজের বাড়ির (ষষ্ঠী বাড়ি) মো. শামীম হোসেনের একমাত্র মেয়ে ও দুই ভাইয়ের আদরের বোন। সে চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রকাশের পর মুন্নি জানতে পারে, সে ২ টি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ খবর শোনার পরপরই সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ নুরুন্নবী তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র মানসিক চাপ ও শোকজনিত কারণে তার শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হয়ে থাকতে পারে। মুন্নির মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, মুন্নির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সে আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। তিনি বলেন, পরীক্ষার ফলাফল জীবনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়। কোনো শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।

চেড়িয়ারা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজির আহমেদ বিএসসি বলেন, মুন্নি অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও সুবোধ শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। ফলাফলকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে পরিবার ও শিক্ষকদের আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

Model Hospital

এদিকে, দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ভোলদীঘি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তার বাড়িতে হামলা ও তাকে এবং তার মাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে অধ্যক্ষ বলেন, ফলাফল প্রকাশের পর উশৃঙ্খল কিছু পরীক্ষার্থী তার বাড়িতে গিয়ে হামলা করেছে এবং তাকে ও তার মাকে গালিগালাজ করেছে। তিনি এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক হিসেবে তাদের শাসন করার ক্ষমতা নেই।

বিচার না হলেও আল্লাহর কাছে বিচার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের হেদায়েত কামনা করেন। অধ্যক্ষের প্রকাশ করা ভিডিওতে বলা হয়, ওই মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ৭২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং দাখিলের ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের বাড়িতে হামলার অভিযোগে শাহরাস্তিতে শিক্ষা ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।